একটি বার্গার। নরম বান থেকে গলে পড়ছে পনির, চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বাষ্প। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই অস্বাভাবিক রকমের সোনালি ও খাস্তা। পাশে ঠান্ডা পানীয়ের গ্লাস গায়ে জমে আছে পানির ফোঁটা, বরফে ঝকঝক করছে আলো। ছবিটি এতটাই নিখুঁত যে দেখে বোঝার উপায় নেই, খাবারটি আদৌ ক্যামেরার সামনে ছিল কি না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই এমন খাবারের ছবি, ভিডিও ও বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারে। বাস্তবে খাবার রান্না না করেও, স্টুডিও ভাড়া না নিয়েও কিংবা ফুড ফটোগ্রাফার ছাড়াই তৈরি করা সম্ভব চোখধাঁধানো বিজ্ঞাপন।
বাণিজ্যিকভাবে এটি বড় সুযোগ। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন খাবারের বিজ্ঞাপনে এআই যত বেশি বাস্তবসম্মত হবে, মানুষ কি তত বেশি প্রভাবিত হবে? আর সেই খাবার যদি অতিরিক্ত চিনি, লবণ, চর্বি বা ক্যালরিযুক্ত হয়, তাহলে এর প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
গবেষণা এখনো এসব প্রশ্নের সব উত্তর দেয়নি। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া কিছু ফলাফল সতর্ক হওয়ার কারণ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন শুধু দেখায় না, খাওয়ার আচরণেও প্রভাব ফেলে
খাবারের বিজ্ঞাপন মানুষের খাওয়ার আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রমাণ নতুন নয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ১৯টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, খাবারের বিজ্ঞাপন দেখার পর শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের খাবার গ্রহণ কিছুটা বেড়েছিল। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রভাবটি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের কাজ শুধু কোনো পণ্যের নাম মনে করিয়ে দেওয়া নয়। আকর্ষণীয় খাবারের ছবি বা ভিডিও মানুষের ক্ষুধা, পছন্দ এবং খাওয়ার সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এখানেই এআই নতুন মাত্রা যোগ করছে
বাস্তব খাবারের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এআই সেগুলো সহজেই পাশ কাটাতে পারে। বার্গারকে আরও বড়, পনিরকে আরও গলনশীল, মাংসকে আরও রসালো, ফ্রাইকে আরও খাস্তা এবং পানীয়কে আরও ঠান্ডা দেখানো সম্ভব। বাস্তবে খাবারটি দেখতে যেমনই হোক না কেন, বিজ্ঞাপনে তার প্রায় ‘আদর্শ’ একটি সংস্করণ তৈরি করা যায়।
ফলে প্রশ্ন উঠছে মানুষ আসলে খাবার দেখছে, নাকি অ্যালগরিদমের তৈরি খাবারের একটি আকাঙ্ক্ষা দেখছে?
এআই ছবি যত বাস্তব, প্রভাবও কি তত বেশি?
২০২৬ সালে *Scientific Reports*-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৮৭ জন অংশগ্রহণকারীকে এআই-তৈরি এবং বাস্তব খাবারের ছবি দেখিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া তুলনা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআই-তৈরি ছবিগুলোকে মানুষ বাস্তব ছবির তুলনায় কম বাস্তবসম্মত এবং খাওয়ার জন্য কিছুটা কম আকর্ষণীয় মনে করেছিল। তবে খাবারটি কতটা স্বাস্থ্যকর বা কত ক্যালরিযুক্ত এ বিষয়ে দুই ধরনের ছবির মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
তবে গবেষণার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল ছিল। যেসব এআই-তৈরি ছবি অংশগ্রহণকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছিল, সেগুলো স্বাস্থ্যকরতা ও খাওয়ার আগ্রহের মতো মূল্যায়নের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত ছিল। অর্থাৎ এআইয়ের তৈরি ছবি যত বেশি বাস্তবের কাছাকাছি মনে হয়, তার দৃশ্যমান প্রভাবও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখানে সতর্কতা জরুরি। গবেষণাটি ছিল পরীক্ষামূলক এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত। তাই এটিকে এআই-ভিত্তিক খাবারের বিজ্ঞাপনের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাবের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যাবে না।
২০২৪ সালের আরেক গবেষণাতেও বাস্তব ও এআই-তৈরি খাবারের ছবি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা অনেক ক্ষেত্রে এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। বিশেষ করে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের ছবিতে কৃত্রিমতার লক্ষণ শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।
তবে ছবিটির উৎস জানানো হলে মানুষের পছন্দে পরিবর্তন দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ছবিটি বাস্তব বলে জানানো হলে তার প্রতি আকর্ষণ বেড়েছিল; অন্যদিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে জানালে সেই আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
অর্থাৎ বিজ্ঞাপনে শুধু কী খাবার দেখানো হচ্ছে তা নয়, সেটি কীভাবে দেখানো হচ্ছে এবং ছবিটি বাস্তব কি না এই তথ্যও ভোক্তার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ
খাবারের বিজ্ঞাপনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুদের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুরা ডিজিটাল মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় শক্তিশালী খাদ্যবিপণনের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনে উচ্চমাত্রার সম্পৃক্ত ও ট্রান্স ফ্যাট, মুক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। খাদ্যবিপণন শিশুদের খাবারের পছন্দ, খাদ্যগ্রহণ এবং খাবার সম্পর্কে তাদের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ডিজিটাল মাধ্যমে বিষয়টি আরও জটিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন এখন ব্যক্তিভেদে লক্ষ্য করে দেখানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, শিশু ও কিশোরদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ডিজিটাল বিপণন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।
একটি শিশুর জন্য কার্টুন চরিত্রসহ বার্গার, অন্য শিশুর জন্য গেমিং-থিমের ফ্রাই, আবার আরেকজনের জন্য রঙিন চকোলেট একই পণ্যের অসংখ্য ভিজ্যুয়াল সংস্করণ তৈরি করা সম্ভব এআই দিয়ে।
সমস্যা হলো, শিশুদের জন্য বিজ্ঞাপন ও বিনোদনের পার্থক্য বোঝা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কঠিন হতে পারে। বিজ্ঞাপন যখন বিনোদনমূলক ভিডিও, গেম, প্রভাবশালী ব্যক্তির কনটেন্ট কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডের সঙ্গে মিশে যায়, তখন বিজ্ঞাপনের প্রভাব শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
খাবারকে বাস্তবের চেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় দেখানোর প্রশ্ন
খাবারের ছবি শুধু ‘কী খাব’ এই সিদ্ধান্তকেই প্রভাবিত করে না; খাবারের আকার, পরিমাণ ও উপস্থাপনার ধরনও মানুষের আচরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এআইয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ বাস্তবে খাবারের পরিমাণ যতটুকুই হোক, ছবিতে সেটিকে বড় ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে দেখানো সম্ভব।
একটি পিৎজার টুকরো বাস্তবে যতটা চিজযুক্ত নয়, ছবিতে সেটিকে অতিরিক্ত চিজে ঢেকে দেওয়া যায়। একটি ছোট মিষ্টিকে বড় দেখানো যায়। সাধারণ কোমল পানীয়ের একটি গ্লাসকে বরফ ও পানির ফোঁটা দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা যায়, যা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
এসব সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রমাণ করে না। তবে খাবারের দৃশ্যমান সংকেত যে মানুষের পছন্দ ও গ্রহণের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। ২০২৩ সালের মেটা-বিশ্লেষণেও খাবারের বিজ্ঞাপন দেখার পর খাবার গ্রহণ বাড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপনের ছবি আর বাস্তব পণ্যের মধ্যে ফারাক
এআই দিয়ে তৈরি খাবারের বিজ্ঞাপনের আরেকটি সমস্যা হলো ছবিটি খাবারের মতো দেখালেও সেটি বাস্তবে পণ্যের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য তুলে নাও ধরতে পারে।
ধরা যাক, একটি রেস্তোরাঁর বার্গার বাস্তবে ছোট। কিন্তু এআই-তৈরি ছবিতে সেটি বড়, মোটা এবং অতিরিক্ত পনিরযুক্ত দেখানো হলো। কিংবা একটি কেক বাস্তবে যতটা ফলযুক্ত নয়, বিজ্ঞাপনে সেটিকে তাজা ফল দিয়ে সাজানো হলো।
এখানে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করার প্রশ্নও আসে
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত নীতিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞাপনের দাবি সত্য ও বিভ্রান্তিমুক্ত হতে হবে এবং বস্তুনিষ্ঠ দাবির যথাযথ ভিত্তি থাকতে হবে। ফলে এআই দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করা গেলেই বাস্তব পণ্যের বৈশিষ্ট্য ইচ্ছেমতো বদলে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয় না।
সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়, খাবারের পরিমাণ অতিরঞ্জিত করা হয়, স্বাস্থ্যকরতার ভুল ধারণা তৈরি করা হয় অথবা কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্যকে বাস্তব পণ্যের উপস্থাপন হিসেবে দেখানো হয়।
অর্থাৎ ঝুঁকির বড় অংশ প্রযুক্তির মধ্যে নয়; বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য এবং ভোক্তার কাছে তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতিতে।
একই এআই দিয়ে নজরদারিও সম্ভব
তবে এআইকে শুধু ঝুঁকি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। যে প্রযুক্তি দিয়ে আরও নিখুঁত ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি করা যায়, একই প্রযুক্তি দিয়ে ক্ষতিকর খাদ্যবিপণন শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করাও সম্ভব।
গবেষকেরা ইতোমধ্যে এআই ও কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করে শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি খাদ্যবিপণনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ছবি ও বিজ্ঞাপন দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। এআই ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও থেকে খাদ্য ও পানীয়ের ব্র্যান্ডভিত্তিক বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা এবং সেগুলো কীভাবে ও কার কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
অর্থাৎ যে প্রযুক্তি আরও নিখুঁত বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারে, একই প্রযুক্তি সেই বিজ্ঞাপন কতবার, কাকে এবং কীভাবে দেখানো হচ্ছে সেটিও নজরদারিতে সহায়তা করতে পারে।
প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
এআই দিয়ে তৈরি খাদ্যবিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এখন বড় প্রশ্ন হলো কী ধরনের স্বচ্ছতা প্রয়োজন?
প্রথমত, বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কিংবা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হলে তা ভোক্তার কাছে স্পষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে যখন ছবিটি পণ্যের প্রকৃত আকার, উপাদান বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি যেমন ‘ওজন কমায়’, ‘ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে’, ‘হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী’ বা ‘১০০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর’ এসব বক্তব্য শুধু এআই দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করলেই হবে না। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, শিশুদের লক্ষ্য করে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিপণনে এআইয়ের ব্যবহার নিয়েও আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিপণন সীমিত করার জন্য নীতিগত পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে।
চতুর্থত, বিজ্ঞাপনের ছবিতে বাস্তব পণ্যের সঙ্গে কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্যের কতটা পার্থক্য গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
প্রযুক্তির আগে প্রশ্নটা মানুষের
এআই-তৈরি খাবারের বিজ্ঞাপন এখনো তুলনামূলকভাবে নতুন ক্ষেত্র। ফলে এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানুষের ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শিশুদের স্থূলতা কিংবা খাদ্যজনিত অসুস্থতার ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলবে এ বিষয়ে সরাসরি গবেষণা এখনও সীমিত।
তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট: খাবারের বিজ্ঞাপন মানুষের সিদ্ধান্ত ও খাবার গ্রহণের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। আর এআই সেই বিজ্ঞাপনকে আগের চেয়ে দ্রুত, সস্তা এবং আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে।
ফলে ভবিষ্যতের প্রশ্ন শুধু ‘এআই দিয়ে খাবারের বিজ্ঞাপন করা যাবে কি না’ এতটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
প্রশ্ন হবে বিজ্ঞাপনে যা দেখানো হচ্ছে, তা কতটা সত্য? কার জন্য তৈরি? কোন খাবারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে? আর সেই আকর্ষণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মানুষের স্বাস্থ্য কতটা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে?
একটি চকচকে বার্গারের ছবি হয়তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য মানুষের ক্ষুধা বাড়াবে। কিন্তু সেই ছবি যদি বাস্তব খাবারের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়, বড় বা স্বাস্থ্যকর বলে মনে হয়, তাহলে সেটি শুধু প্রযুক্তির সাফল্যের বিষয় নয়; ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও এটি নতুন এক পরীক্ষার ক্ষেত্র।