বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আশরাফ হাকিমির বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে ফুটবলপাড়ায় বেশ আলোচনা চলছে।
তবে এই ম্যাচের আবহ শুধু দুই বন্ধুর লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নেই; মরক্কো শিবিরের ছয় ফুটবলারের জন্য এটি এক আবেগের পরীক্ষা। কারণ, আজ তাঁরা মাঠে নামছেন নিজেদের জন্মভূমি ফ্রান্সেরই বিরুদ্ধে!
মরক্কোর ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে এমন ছয়জন ফুটবলার রয়েছেন যাদের জন্ম ফ্রান্সে।
তারা হলেন—রেদুয়ান হালহাল, গেসিম ইয়াসিন, সামির এল মুরাবেত, নিল এল আয়নাউয়ি, ইসা দিওপ এবং আইয়ুব বুয়াদ্দি।
বংশের টানে মরক্কোর জার্সি
পারিবারিক সূত্রে এই ফুটবলারদের শিকড় উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় জন্মসূত্রে ফ্রান্স এবং বংশসূত্রে মরক্কো—উভয় দেশের হয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার বৈধতা ছিল তাঁদের সামনে।
তবে ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত মুহূর্তে তারা বেছে নিয়েছেন পূর্বপুরুষের দেশ মরক্কোকেই।
অবশ্য প্রতিপক্ষের দেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা মরক্কোর জন্য নতুন কিছু নয়।
চলতি বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেই স্কোয়াডে ছিলেন ডাচ ভূমিতে জন্ম নেওয়া ৩ মরক্কান ফুটবলার। এবার ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই সংখ্যাটা এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রে তরুণ তুর্কি বুয়াদ্দি
এই ছয় ফরাসিজাত মরক্কান ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছেন আইয়ুব বুয়াদ্দি।
১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার চলতি বছরের শুরুর দিকেও ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন, এমনকি পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্বও। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ফ্রান্সের মায়া ত্যাগ করে মরক্কোর জাতীয় দলকে বেছে নেন এই তরুণ।
মরক্কোর দূরদর্শী কৌশল:
দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এমন প্রতিভাবান ও তরুণ ফুটবলারদের নিজেদের রাডারে রাখা এবং তাঁদের মরক্কো জাতীয় দলে ভেড়ানোর এই প্রজেক্টটি বেশ কয়েক বছর ধরেই সফলভাবে চালিয়ে আসছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
অতীতেও ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া একঝাঁক তারকা মরক্কোর জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন।
যার মধ্যে সোফিয়ান বৌফাল, রোমাঁ সাইস, মারুয়ান শামাখ, মেহদি বেনাতিয়া এবং কিংবদন্তি মুস্তাফা হাজ্জির মতো নামগুলো অন্যতম।
আজ ঘরের ছেলেদের বিরুদ্ধেই নিজেদের সেরাটা দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে চাইবে মরক্কোর এই 'ফরাসি' ব্রিগেড।