কাতারে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের স্মৃতি এখনো মরক্কোর ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। সেবার আফ্রিকান দলটির রূপকথার মতো পথচলা থেমেছিল ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে।
এবার আরও এক ধাপ আগেই মুখোমুখি দুই পরাশক্তি। প্রশ্ন উঠেছে, চার বছর আগের সেই হারের প্রতিশোধ কি এবার নিতে পারবে মরক্কো?
কাগজ-কলমে ফ্রান্স ফেভারিট হলেও, তাদের হারানো যে অসম্ভব নয়—সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে অ্যাটলাস লায়নরা। বেশ কিছু শক্তিশালী ফ্যাক্টর মরক্কোকে এবার ফ্রান্সবধের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ‘ভয়ডরহীন’ ফুটবল
চলতি টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মরক্কো স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে, মাঠের লড়াইয়ে তারা কাউকেই সমীহ করবে না। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও হার না মানা মানসিকতা দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে মরক্কোর রেকর্ডই তার প্রমাণ:
ব্রাজিল: প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়ে ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র।
স্পেন ও পর্তুগাল: ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনকে টাইব্রেকারে বিদায় করার পর কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকেও হারিয়েছিল তারা।
বেলজিয়াম: গ্রুপ পর্বেও বেলজিয়ামের মতো শীর্ষ দলকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল মরক্কো।
পাল্টে গেছে খেলার কৌশল
২০২২ সালের সেই রক্ষণাত্মক ও কাউন্টার-অ্যাটাকনির্ভর মরক্কোকে এবার আর দেখা যাচ্ছে না। টুর্নামেন্টের ঠিক আগেই কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আনে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন।
বর্তমান কোচ মোহামেদ ওয়াহবির অধীনে দলের মূল দর্শনই হচ্ছে ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে।
ডাচদের চেপে ধরে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় মরক্কো। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ১০টি গোল করেছে তারা, যা যৌথভাবে (সেনেগালের সঙ্গে) যেকোনো আফ্রিকান দলের জন্য একটি রেকর্ড।
ফ্রান্সের ‘নাড়িনক্ষত্র’ জানা হাকিমির
মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের অধিনায়ক ও রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি। ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে খেলার সুবাদে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের শক্তি ও দুর্বলতা তার নখদর্পণে। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে বছরের পর বছর খেলেছেন তিনি।
ওসমানে দেম্বেলে, দেসিরে দুয়ে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলার মতো ফরাসি ফরোয়ার্ডরা বর্তমানে পিএসজিতে হাকিমিরই সতীর্থ। ফলে ফরাসিরা কোন কৌশলে আক্রমণ সাজাতে পারে, তা খুব ভালো করেই জানেন এই মরক্কান তারকা।
তারকাদের ছড়াছড়ি
মরক্কো দলে এখন কেবল হাকিমিই একমাত্র বড় নাম নন। চোটের কারণে ইসমাইল সাইবারি ছিটকে গেলেও মিডফিল্ড সামলানোর জন্য আছেন লিলের আইয়ুব বুয়াদ্দি ও রোমার আল আইনুনি।
এছাড়া ইউরোপের শীর্ষ স্তরে খেলা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নুসাইর মাজরাউই এবং রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজের মতো বিশ্বমানের ফুটবলাররা মরক্কো দলে আছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
টাইব্রেকার ও পেনাল্টি কিকের ‘মাস্টার’
ম্যাচ যদি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়, তবে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে মরক্কোই। কারণ পেনাল্টির জন্য তাদের প্রস্তুতি যেকোনো দলের চেয়ে সেরা।
গোলপোস্টের নিচে দলটির অতন্দ্র প্রহরী ইয়াসিন বোনো। কাতার বিশ্বকাপে স্পেনের কার্লোস সোলার ও সার্জিও বুসকেটসের পেনাল্টি রুখে দিয়ে যিনি নায়ক বনেছিলেন।
চলতি আসরেও নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেনসিও সামরভিলের পেনাল্টি ঠেকিয়ে মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
সব মিলিয়ে, প্রতিশোধের আগুন আর চেনা প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা মাথায় রেখে ফ্রান্সের দুর্গ ভাঙতে পুরোপুরি প্রস্তুত মরক্কো।
ব্যাটিং ধসে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হার টাইগাদের
মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন ঘাঁটিই নিরাপদ নয়: আইআরজিসি
বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে ১০ প্রাণহানি, সতর্কবার্তা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে পাঁচ আর্জেন্টাইন রেফারি
মিসরের জন্য বড় সুখবর
টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ফ্রান্সের আপিল খারিজ, ওলিসের হলুদ কার্ড বহাল
বাসাইলে জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতক উদ্ধার
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর