ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স ও মরক্কো।
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সেই রুদ্ধশ্বাস স্মৃতি এবার বোস্টনের মাঠে ফিরিয়ে আনছে এই দুই হেভিওয়েট জায়ান্ট।
সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মহালড়ায়ের আগে দুই দলের শুরুর একাদশে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। চোট ও কৌশলী কারণে মরক্কো শিবিরে দুটি এবং ফরাসি শিবিরে এসেছে একটি পরিবর্তন।
মরক্কো শিবিরে জোড়া ধাক্কা, একাদশে নতুন দুই মুখ
মহা-গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো দল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি।
এছাড়া ফর্ম বা কৌশলী কারণে একাদশ থেকে বেঞ্চে নামিয়ে রাখা হয়েছে রেদোয়ান হালহালকে।
বাধ্য হয়েই মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন। আজ শুরু থেকেই মাঠে নামছেন চেমসদিন তালবি ও আনাস সালাহ-এদ্দিন।
মরক্কোর শুরুর একাদশ:
ইয়াসিন বুনু (গোলরক্ষক), আশরাফ হাকিমি (অধিনায়ক), ইসা দিয়োপ, নুসাইর মাজরাউই, আনাস সালাহ-এদ্দিন, আইয়ুব বুয়াদি, নিল এল আইনাউই, চেমসদিন তালবি, আজেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস ও ব্রাহিম দিয়াজ।
বারকোলার জায়গায় দুয়ে, এখনো ফিট নন চুয়ামেনি
অন্যদিকে, হট ফেবারিট ফ্রান্স দলেও এসেছে একটি পরিবর্তন। উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে কোচ সুযোগ দিয়েছেন তরুণ তুর্কি ডিজায়ার দুয়েকে।
ফরাসিদের জন্য কিছুটা চিন্তার বিষয়—রাউন্ড অব সিক্সটিনের আগেই অ্যাডাক্টর ইনজুরিতে পড়া তারকা মিডফিল্ডার অরেলিয়ান চুয়ামেনি এখনও পুরোপুরি ফিট হতে পারেননি।
ফলে আজকের বিগ ম্যাচেও তাকে সাইডবেঞ্চে বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকতে হচ্ছে।
ফ্রান্সের শুরুর একাদশ:
মাইক মেইনিয়ান (গোলরক্ষক), জুল কুন্দে, দায়ো উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকা দিন, মানু কোনে, আদ্রিয়েন রাবিও, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ডিজায়ার দুয়ে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (অধিনায়ক)।
র্যাংকিং বনাম দলগত সংহতির লড়াই
ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখা ফ্রান্স শক্তির বিচারে কাগজে-কলমে অনেকটাই এগিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফরাসি দলটি বিশ্বমানের তারকায় ঠাসা।
অন্যদিকে, ফিফা র্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা মরক্কো দলে হয়তো ফ্রান্সের মতো ঝাঁক ঝাঁক সুপারস্টার নেই, তবে আশরাফ হাকিমি-ব্রাহিম দিয়াজদের দলগত সংহতি ও লড়াকু মানসিকতা যেকোনো পরাশক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফ্রান্স ফাইনালে ওঠার পথ সুগম করবে, নাকি মরক্কো নেবে প্রতিশোধ—তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।