সম্প্রতি হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যায় নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি মানুষ। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুস্মৃতি কিছুটা হলেও ভুলতে এবং স্থানীয়দের অনুপ্রেরণা জোগাতে বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চায় নেপাল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। সেখানেই তিনি এই প্রস্তাব দেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভয়াবহ বন্যার পর সময়মতো সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশকে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের অনুরোধ করছি। আমাদের দল বাংলাদেশ সফরে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। একইভাবে বাংলাদেশ দলকে নেপালে স্বাগত জানাতেও আমরা প্রস্তুত।’
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুদৃঢ় রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ঘনশ্যাম দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চমৎকার রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ক্রীড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
নেপালের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ক্রীড়া কূটনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘আমরা ক্রীড়া কূটনীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন খেলায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছি।’
বাংলাদেশ-নেপাল টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনে নেপালের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দেওয়ার অনুরোধ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।