লড়াই করে হার, টি-টোয়েন্টি সিরিজ খোয়ালো টাইগাররা

ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের ব্যাটিং ঝড়ে চট্টগ্রামের ফ্লা. লে. শহীদ মতিউর রহমান চৌধুরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া। প্রায় বিশ হাজার দর্শকের সামনে জমে ওঠা ম্যাচ শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল স্বাগতিকদের হাতছাড়া সুযোগে।

প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে তোলে ১৯৬ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ম্যাট রেনশ খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ৮৯ রানের ইনিংস, আর টিম ডেভিড যোগ করেন ২৬ বলে ৪৫ রান। এই দুইজনের ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। উইকেট ব্যাটিংবান্ধব থাকায় প্রায় দুইশর কাছাকাছি স্কোরে পৌঁছে আত্মবিশ্বাসে টগবগে ছিল সফরকারীরা।

বাংলাদেশের রান তাড়া শুরু হয় দারুণভাবে। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান পাওয়ার প্লেতে তুলে নেন ৭২ রান, হারায় মাত্র এক উইকেট। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ করে দ্রুত ফিরলেও সাইফ ইনিংস গুছিয়ে রাখেন।

মাঝের ওভারে পারভেজ হোসেন ইমন এসে ইনিংসে নতুন গতি আনেন। সাইফের সঙ্গে ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আনার ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশেষ করে অ্যাডাম জ্যাম্পাকে টানা দুই ছক্কা ও ডেভিসকে বিশাল ছক্কায় চাপ তৈরি করেন পারভেজ।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় খুব দ্রুত। থিতু হয়ে যাওয়ার পর মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে আউট হন পারভেজ ও সাইফ। পারভেজ ২২ বলে ৩৬ করে হার্ডির শিকার হন, সাইফ ৩৩ বলে ৪২ করে ক্যাচ দেন কভার অঞ্চলে। এখান থেকেই বাংলাদেশের রান তাড়ার ছন্দ ভেঙে পড়ে।

শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় চেষ্টা করেন ম্যাচ টেনে নেওয়ার। ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি ও একটি ছক্কায় শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখেন। শামীম হোসেন ও সাকলাইন কিছুটা সঙ্গ দিলেও চাপ সামলাতে পারেননি।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। প্রথম তিন বলে আসে মাত্র ৫ রান। এরপর হৃদয়ের ছক্কায় ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ দুই বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় দুটি বড় শটের। পঞ্চম বলে তিনি বাউন্ডারি পেলেও শেষ বলে আর সফল হতে পারেননি, মিড উইকেটে ধরা পড়েন তিনি।

বাংলাদেশ শুরুতে বল হাতে ভালো করেছিল। নাসুম আহমেদ ও নাহিদ রানা উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৪৪ রানে ৩ উইকেটে চাপে ফেলে দেন। নাসুম ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন সেরা বোলার। মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকলাইনও গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু আনেন।

তবে রেনশ ও ডেভিডের জুটি সেই চাপ পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়। শেষদিকে আবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ, কিন্তু তখন অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে যায় বড় স্কোরে।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে। সিরিজে এখন এক ম্যাচ বাকি থাকলেও অস্ট্রেলিয়া ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করেছে। ২১ জুন একই মাঠে হবে তৃতীয় ম্যাচ, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।