হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু টাইগারদের

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ের শুরুটা হলো হারে। চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতায় নিজেদেরই পিছিয়ে দেয় টাইগাররা। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া তাওহীদ হৃদয়ের দল ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। অজি স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পার ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে মিডল অর্ডার, আর বোলারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মাত্র ১৩১ রানের স্বল্প পুঁজি।

তবু ম্যাচ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই ছেড়ে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে একক নৈপুণ্যে জয় ছিনিয়ে নেওয়া কুপার কনোলি আবারও হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রধান বাধা। তবে মাত্র ১৩১ রান রক্ষা করতে নেমেও অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট তুলে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে টাইগার বোলিং ইউনিট। ২০-৩০ রান বেশি থাকলে হয়তো ম্যাচের চিত্রটাই অন্যরকম হতে পারত।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

সাইফ হাসান ২০, তানজিদ হাসান ১০ ও সৌম্য সরকার ১৭ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হৃদয়ও ৫ বলে ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। পারভেজ হোসেন ইমন, আব্দুল গাফফার সাক্লাইন ও শামীম হোসেন কেউই ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

মিডল অর্ডার ভেঙে পড়লেও শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন শেখ মেহেদী হাসান। অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসে তিনি দলের সংগ্রহকে তিন অঙ্কের ওপরে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাডাম জ্যাম্পা ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। সমান তিনটি করে উইকেট নেন জোয়েল ডেভিস। দুটি উইকেট পান ম্যাট রেনশ।

১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিসকে ফিরিয়ে আশা জাগান মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

তবে এরপর আবারও বাংলাদেশকে ভোগান কুপার কনোলি। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার এবার ২৭ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার ভিত গড়ে দেয়।

টিম ডেভিড ২০, ম্যাট রেনশ ১৮ এবং নিখিল চৌধুরী ১৮ রান যোগ করলে লক্ষ্য আর কঠিন থাকেনি। তবুও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। শরিফুল, মোস্তাফিজ, মাহেদী, রিশাদ ও অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাক্লাইন উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের চাপে রাখার চেষ্টা করেন।

বিশেষ করে নিজের টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সাক্লাইন দেখিয়েছেন সাহসী বোলিং। তিনি ৩.২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু রান কম হওয়ায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ নেয়নি।

১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করে সফরকারীরা।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জ্যাম্পা। তার ৪ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেটই বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি।

এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

AS
আরও পড়ুন