ইরানে ক্রিকেটের বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাকিস্তানের

ইরানে ক্রিকেটের বিকাশে ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছেন ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানে পেশাদার পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি দেশটির ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও যুববিষয়ক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতার বিষয়টি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল ২০২২ সালে দুই দেশের যৌথ কমিশনের কাঠামোর আওতায়। সে সময় এ বিষয়ে একটি সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই পক্ষ প্রস্তাবিত সহযোগিতা নথি শিগগির কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ক্রিকেট। ইরানের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী দুনিয়ামালি বলেন, ক্রিকেটে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় তাঁর দেশ। খেলাটিতে পাকিস্তান নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র ধারা গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানও এ অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে আগ্রহী।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের যেসব প্রদেশ পাকিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন, সেখানে ক্রিকেট জনপ্রিয় বলেও উল্লেখ করেন দুনিয়ামালি। এসব অঞ্চলে খেলাটির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানের।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য র‌্যাকেট খেলায়ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ইরানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব খেলায় পাকিস্তানি কোচ ও রেফারিদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ইরানি খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানও। তিনি পাকিস্তান ও ইরানের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়কে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটবিষয়ক সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সিদ্দিকি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ। ক্রীড়া ও যুববিষয়ক ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইরান ও পাকিস্তান শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, শিল্প, সংস্কৃতিসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রেও একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।’ আগামী দুই মাসে এ ধরনের সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন সিদ্দিকি। বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই দেশের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক উপমন্ত্রীদের মধ্যে অনলাইন যোগাযোগ চালুর প্রস্তাবও দেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত। তাঁর মতে, এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।
বৈঠক শেষে ইরানে ক্রিকেটের বিকাশে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন সিদ্দিকি। দুই দেশের কর্মকর্তাদের সম্মত সহযোগিতা নথি এবং ক্রিকেটবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরির উদ্যোগ এখন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি