গ্রিনল্যান্ডে বিপুল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর ট্রাম্পের দাবি নাকচ

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিসরে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান শুরুর প্রস্তুতি চলছে, এমন দাবির বিরোধিতা করেছে অঞ্চলটির সরকার। গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কিছু অনুসন্ধান কার্যক্রম চললেও তা বড় পরিসরে অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং এসব কার্যক্রম বাস্তব উৎপাদনে রূপ নিতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে গ্রিনল্যান্ডের খনিজবিষয়ক উপমন্ত্রী ইয়র্গেন হামেকেন-হলম বলেন, সেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কিছু কার্যক্রম রয়েছে। তবে সেগুলোকে কোনোভাবেই ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম বলা যায় না। তিনি বলেন, ‘অনেক ছোট পরিসরের অনুসন্ধান চলছে। তবে সেগুলো কার্যকর উৎপাদনে যেতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।’

গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ আহরণের বাস্তবতা নিয়ে গবেষকদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও তাঁর বক্তব্যের মিল রয়েছে। গবেষকেরা এর আগে উল্লেখ করেছেন, অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক বাধা রয়েছে। এ কাজে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় সম্পদের সম্ভাবনা থাকলেই দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়।

গ্রিনল্যান্ডের বহু খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অবস্থান উত্তর মেরুবৃত্তের ওপারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এসব এলাকার বড় অংশে রয়েছে প্রায় এক মাইল পুরু বরফের স্তর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও অভাব রয়েছে। দ্বীপটির প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকাই বরফে ঢাকা। ফলে সেখানে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং উত্তোলনকে জটিল ও ব্যয়বহুল কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ

হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে তাঁর আগ্রহ ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ন্যাটোর মিত্রদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি করেছে।

বুধবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় যেকোনো স্থানের তুলনায় গ্রিনল্যান্ডে সহজে আহরণযোগ্য তেলের পরিমাণ অনেক বেশি।

তবে গ্রিনল্যান্ডের সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে অনুসন্ধান কার্যক্রম থাকলেও তা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস দ্রুত উত্তোলনের সম্ভাবনা এখনো বাস্তবতার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অর্থাৎ, সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান অনুসন্ধান কার্যক্রমের অবস্থার স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা

গত মাসে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। ওই সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তবে সমঝোতার নথিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সমঝোতার নথিতে উল্লেখ করা অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমঝোতার নথিতে তেল ও গ্যাসের বিষয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে খনিজ সম্পদ নিয়ে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সমঝোতাটিতে ১৯৫১ সালের একটি চুক্তিতে সীমিত পরিবর্তনের কথাও রয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অনুমতি রয়েছে। নতুন সমঝোতা অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পথ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প

বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যেকোনো হামলা গ্রিনল্যান্ড অতিক্রম করে আসতে হবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে এমন যেকোনো অস্ত্র প্রতিহত করবে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিসরে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান শুরুর বিষয়ে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে দ্বীপটির সরকারের বক্তব্যের অমিল রয়ে গেছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সিএনএন 

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত