সেঞ্চুরি করেই সাদমানের বিদায়

রাত পেরিয়ে নতুন দিনের অপেক্ষা, আর মাত্র এক রান দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাদমান ইসলাম। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে বেশি সময় লাগেনি। জশুয়া বিশপের করা দিনের দ্বিতীয় বলেই দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের দেখা পান বাংলাদেশের এই ওপেনার। তবে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১০৫ রানেই বিশপের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে সাদমানকে। তানজিদ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস শুরু করে ক্যারিবীয় পেসারদের বিপক্ষে সতর্ক ব্যাটিং করেন তিনি। নতুন বলের বিপদ এড়াতে শুরুতে বেশির ভাগ বল ছেড়ে দেন। ১৬তম বলে গিয়ে প্রথম রানের দেখা পান সাদমান। প্রথম বাউন্ডারি পেতেও অপেক্ষা করতে হয় নবম ওভার পর্যন্ত। সেটিই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম চার।

প্রথম দিনের ১১তম ওভার থেকে স্পিন আক্রমণে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে এসেই টার্ন আদায় করে নেন চেজ। তবে স্পিনের বিপক্ষেও নিজের ধৈর্য ধরে রাখেন সাদমান। ৯৪ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এরপর সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন মোট ২২১ বল। টেস্টে ১৭ ইনিংস পর তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তিনি।

আলোকস্বল্পতার কারণে প্রথম দিন দুই দফায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাদমানের সেঞ্চুরি অপেক্ষায় পড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই খেলা শেষ হওয়ায় ৯৯ রান নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে দ্রুতই সেই অপেক্ষা শেষ করেন। তবে সেঞ্চুরির পর আর বেশি দূর এগোতে পারেননি। শতক পূরণের পর মাত্র ১২ বল খেলে আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

সাদমানের ২৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার। তাঁর এই শতকের মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। ওপেনার হিসেবে ১০টি টেস্ট সেঞ্চুরি নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তামিম ইকবাল। এত দিন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদুল হাসানের দুটি করে সেঞ্চুরি ছিল। সাদমানের তৃতীয় শতকে তাঁদের ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।