বিতর্ক, নাটক, অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আজ বিসিবির নির্বাচন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আজ সোমবার। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে গত কয়েকদিনে যা ঘটেছে, তাতে ভোটারদের আগ্রহের চেয়ে বেশি ছিল উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও হতাশা। নির্বাচন কমিশন, আদালত, প্রার্থী ও ভোটার-প্রতিটি জায়গায় ছিল বিতর্কের ঘনঘটা।

অধিকাংশ নির্বাচনে উত্তেজনা থাকে ভোটের দিন। কিন্তু বিসিবির নির্বাচন শুরু থেকেই ব্যতিক্রম। একদিকে কাউন্সিলরদের তালিকা নিয়ে অস্পষ্টতা, অন্যদিকে মনোনয়নপত্র জমা, প্রত্যাহার ও বৈধতা নিয়ে নাটক-সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ হয়ে ওঠে তীব্রভাবে রাজনৈতিক, অন্তর্দ্বন্দ্বপূর্ণ এবং প্রশ্নবিদ্ধ।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১৯১ জন থাকলেও ভোট দিচ্ছেন ১৫৬ জন। বাকি ৩৫টি পদে প্রার্থীই ছিলেন না একাধিক, ফলে সেসব পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ৩৩ জন, যার মধ্যে শেষ মুহূর্তে ৪ জন সরে দাঁড়িয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে ক্লাব ভিত্তিক ক্যাটাগরি-২ নিয়ে। এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৩২ জন, যার মধ্যে তামিম ইকবালসহ ১৫ জন সরে দাঁড়ান। এরপর নির্বাচন কমিশন ‘অনিয়মে জড়িত’ অভিযোগে আরও ১৫টি ক্লাবের ভোটাধিকার বাতিল করে। ফলে প্রার্থী নেমে আসেন ১৬ জনে।

শেষ মুহূর্তে নতুন মোড় নেয় নির্বাচন। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত ইফতেখার রহমান মিঠুর প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে। তার নাম ব্যালটে না থাকায় আগেই পাঠানো ই-ব্যালটগুলো বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে যারা আগেই ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে আবার ই-ব্যালট পাঠাতে হচ্ছে।

অবিশ্বাস আর অব্যবস্থাপনার এই চক্রে ভোটের আগেই ক্যাটাগরি-২ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক প্রকার অনাস্থা ও বিভ্রান্তি।

জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অর্থাৎ ক্যাটাগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৬ জন-চট্টগ্রাম থেকে আসিফ আকবর ও আহসান ইকবাল চৌধুরী, খুলনা থেকে আব্দুর রাজ্জাক ও জুলফিকার আলী খান, বরিশাল থেকে শাখাওয়াত হোসেন এবং সিলেট থেকে রাহাত শামস।

তবে এখানেও নির্বাচনের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর দুইজন প্রার্থী সরে দাঁড়ান, ফলে তাদের নাম ব্যালটে থাকলেও কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।

এই ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক জাতীয় অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দেবব্রত পাল। আরেকজন প্রার্থী-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও তা প্রত্যাহার করেন। 

যদিও ১৫৬ জন ভোটার ভোট দেবেন, তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রিকেট সংগঠক ও কাউন্সিলররা ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তাদের মতে, এই নির্বাচন গঠনতান্ত্রিকভাবে সঠিক হয়নি, এবং তারা এটিকে-নির্বাচনের নামে নাটক” হিসেবে দেখছেন!