গুয়াহাটির আকাশে তখন রাতের আলো। মাঠে আলো জ্বলছে, তবে সেই আলো যেন কিছুটা ম্লান হয়ে আসে বাংলাদেশের মেয়েদের চোখে। কারণ, দারুণ লড়াই করেও জয় ধরা দেয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমন এক নাটক, যেখানে সবকিছু ঠিকঠাক এগিয়ে চলছিল, কেবল শেষ দৃশ্যটুকু বাদে। শেষে স্কোরবোর্ডবলছে ইংল্যান্ড জিতেছে, ৪ উইকেটে।
ম্যাচের শুরুতে টাইগার মেয়েরা টস হেরে ব্যাট করতে নামে। স্বপ্নটা তখন থেকেই একটু ধোঁয়াশা। ব্যাটিংটা যেন চলছিল কাঁটার উপর দিয়ে। ওপেনিংয়ে ঝিলিক ব্যর্থ। জ্যোতিও রানখাতাই খুলতে পারেননি। শারমিন ভালো শুরু পেয়েও সেটাকে রূপ দিতে ব্যর্থ। রান উঠছিল, কিন্তু ধীর, যেন সময় আটকে গেছে।
এই সময় উইকেট আগলে রাখেন সুবহানা মুস্তারি। অভিষেক ম্যাচে তিনি দেখালেন, ধৈর্য কাকে বলে। ১০৮ বল খেলে ৬০ রানের ইনিংসে তিনি দলকে একাই টানলেন, কিন্তু তার ইনিংস যেন একটি বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা-দৃঢ়, কিন্তু আশাব্যঞ্জক নয়।
ইনিংসের শেষদিকে নাটকটা জমে ওঠে। রাবেয়া খাতুন নামেন ৯ নম্বরে, আর সেই সময় যেন বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। মাত্র ২৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংস-৬টি চার, একটি ছক্কা, যেন সময়কে চিৎকার করে জানান দিলেন, ‘এখনও শেষ হয়নি’। তাতেই ১৭৮ রানে থামে বাংলাদেশ। জয় পাওয়ার মতো রান নয়, কিন্তু লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট।
এই রান নিয়েই নামেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি ফিরিয়ে দেন এমি জোনসকে। পেস, সুইং আর আগ্রাসনে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা তখন খাপছাড়া। এরপর আরেকটি আঘাত- বাউম্যান্টও ফিরলেন। ইংল্যান্ডের ইনিংস যেন কেঁপে উঠল।
তারপর আসে স্পিনের রাজত্ব। নাহিদা একপ্রান্তে বেঁধে রাখেন, আর ফাহিমা খাতুন-চোখ ধাঁধানো এক স্পেল। তার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হন ডানকলি, ল্যাম্ব, ক্যাপসি। ৭৮ রানে ৫ উইকেট নেই ইংল্যান্ডের। তখন বাংলাদেশ শুধু ম্যাচে নয়, জয় থেকেও মাত্র কয়েক কদম দূরে।
কিন্তু হঠাৎ যেন সময় থমকে যায়। হঠাৎ যেন উইকেট বন্ধ হয়ে যায়, রান বাড়তে থাকে ধীরে, কিন্তু অবিচলভাবে। কারণ, হেথার নাইট তখন উইকেটের একপ্রান্তে। বল খেলে যাচ্ছেন, আর ক্রমে নিঃশব্দে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে নিচ্ছেন নিজের হাতে। চার্লি ডিনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়েন এক অবিচ্ছিন্ন জুটি। বাংলাদেশের স্পিনে তৈরি জালটাকে ধীরে ধীরে ছিঁড়ে ফেলেন তারা।
নাইট অপরাজিত থাকেন ৭৯ রানে, খেলেন ১১১ বল। তার ইনিংসে ছিল ধৈর্য, ছিল কঠিন মানসিকতা, ছিল অধিনায়কোচিত দৃঢ়তা। আর তাতেই বাংলাদেশ দেখতে পায় আরেকটি জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু শেষ অব্দি মিলেনি সমীকরণ! জবাবে ৪৬ ওভার এক বলে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।