রিশাদ টেস্টের জন্যও প্রস্তুত- সাফ জানালেন কোচ মুশতাক

বাংলাদেশ দলে দীর্ঘদিন ধরেই একজন কার্যকর লেগস্পিনারের অভাব অনুভূত হচ্ছিল। সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন তরুণ রিশাদ হোসেন। ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি, দুই ফরম্যাটেই এখন তিনি বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের মূল ভরসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা রিশাদকে নিয়ে এখন দেশজুড়ে আলোচনা।

দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে রিশাদকে নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। তার চোখে রিশাদ এখন আন্তর্জাতিক মানের এক লেগস্পিনার, যার বোলিং অনেকটাই রশিদ খানের কাছাকাছি। মুশতাক বলেন, ‘রিশাদের বোলিং ইদানীং অনেকটা রশিদের কাছাকাছি, তাই আমি চেয়েছি রশিদের সঙ্গে ওর আলাপ করিয়ে দিতে। তরুণ স্পিনারদের জন্য রশিদ, আদিল রশিদদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এখন আন্তর্জাতিকভাবে সবাই ওকে মূল্যায়ন করছে, ওদের পরামর্শ তাই রিশাদের জন্য খুবই দরকার।’

প্রথম ওয়ানডেতে স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও রিশাদের পারফরম্যান্স সহজে আসেনি বলেই মনে করেন মুশতাক, ‘ছয় উইকেট নেওয়া মোটেও সহজ কাজ ছিল না। কখনও কখনও স্পিনাররা চাপে পড়ে, কারণ সেরাটা দেওয়ার চাপ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিচলিত হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু রিশাদ সেটা সামলে নিয়েছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগস্পিনারের ঘাটতি বহু পুরোনো। মাঝে কয়েকজন উঠে এলেও স্থায়ী হতে পারেননি কেউ। সেই জায়গায় নতুন আলো হয়ে এসেছেন রিশাদ হোসেন, যিনি ২০২৩ সালের মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। এরপর থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নিয়ে আরও উঁচুতে তুলেছেন প্রত্যাশার পারদ।

এখন প্রশ্ন উঠছে-রিশাদ কি লাল বলের ক্রিকেটেও নিজের জায়গা পাকা করতে পারবেন? মুশতাক আহমেদ সেই বিশ্বাস রাখেন, বরং তিনি নিশ্চিতভাবে মনে করেন রিশাদ টেস্টেও সফল হবেন, ‘১০০ ভাগ নিশ্চিত সে টেস্ট খেলতে পারে। সব দলেই এখন শেষ চার ব্যাটসম্যান ব্যাট করতে পারে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডেও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা লেগস্পিনারদের বিপক্ষে সহজে খেলতে পারে না। রিশাদের উচ্চতা ও বাউন্স তাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।’

যদিও রিশাদ এখনো টেস্ট দলের অংশ নন, তবে মুশতাক জানিয়েছেন, রিশাদ নিজেই চার দিনের ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘সে জানে যত লাল বলের ক্রিকেট খেলবে, ততই তার বোলিং আরও উন্নত হবে।’

২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২১টি ম্যাচ খেলেছেন রিশাদ, যেখানে উইকেট নিয়েছেন ৩১টি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত না হলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্রুত নিজের স্থান তৈরি করেছেন তিনি। পিএসএল ও আসন্ন বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করছে।