অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পেলেন ইরানের ৫ নারী ফুটবলার

ইরানে ফিরে গেলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও চরম নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় থাকা পাঁচ নারী ফুটবলারকে শেষ পর্যন্ত মানবিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানি জাতীয় নারী ফুটবল দলের ওই পাঁচ সদস্যকে বিশেষ ‘মানবিক ভিসা’ প্রদান করা হয়েছে। 

আশ্রয় পাওয়া ফুটবলাররা হলেন- জহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামুদি, জহরা ঘানবারি, ফাতেমেহ পাসানদিদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই সাহসী নারীদের দুর্দশায় গভীরভাবে বিচলিত। তারা এখন এখানে নিরাপদ এবং আমরা চাই তারা অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের ঘর মনে করুক।’

এশিয়ান কাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিল ইরানের নারী ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান খেলোয়াড়রা। এই ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাদের কঠোর সমালোচনা করা হয়, যা তাদের মধ্যে দেশে ফেরা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে। এরপরই ওই পাঁচ খেলোয়াড় গোপনে দলের হোটেল ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন।

এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে সতর্ক করেছিলেন যে, এই খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হবে একটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’। পরে আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, অস্ট্রেলিয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সামাল দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, ওই পাঁচজনের সঙ্গে সরকারের গোপন আলোচনা চলছিল। তবে দলের বাকি সদস্যদের অবস্থা নিয়ে এখনও উদ্বেগ কাটেনি। ফুটবলারদের সংগঠন ‘ফিফপ্রো’ (FIFPRO) অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, বাকি খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে চলমান অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবলারদের এই দলত্যাগের ঘটনা বিশ্ব গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।