ইংল্য্যন্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নের এক্স-ফ্যাক্টর বেলিংহ্যাম

ইউরোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকের পর দর্শকদের দিকে তাকিয়ে জুড বেলিংহ্যামের প্রশ্ন ছিল, ‘আর কে?’। তখন মনে হয়েছিল ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ যেন পুরোপুরি তার হাতেই। কিন্তু দুই বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে সেই অবস্থান আর আগের মতো অটুট নেই। তবুও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নে সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে এখনও দেখা হচ্ছে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকেই।

ইউরো ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর বেলিংহ্যামের ক্যারিয়ার কিছুটা থমকে যায়। চোট, ফর্মের ওঠানামা এবং কোচ টমাস টুখেলের কঠোর নীতির কারণে জাতীয় দলে তার অবস্থান নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। একসময় যে জায়গাটি তার জন্য অবিসংবাদিত ছিল, সেটি এখন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন শৈশবের বন্ধু মর্গান রজার্স।

বিশ্বকাপের আগে টুখেল ও বেলিংহ্যামের সম্পর্কও বেশ আলোচিত ছিল। এমনকি এক পর্যায়ে কোচের মন্তব্য এবং দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনাও শিরোনাম হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে দেখা গেছে ভিন্ন এক বেলিংহ্যামকে, ফিট, আত্মবিশ্বাসী এবং দলের সঙ্গে আগের চেয়ে বেশি সম্পৃক্ত।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসন মনে করেন, বড় মঞ্চে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও বেলিংহ্যামের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি। তার ভাষায়, বেলিংহ্যাম বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ, ইউরো এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা অন্যদের চেয়ে আলাদা।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বেলিংহ্যাম জানেন, তার জায়গা আর নিশ্চিত নয়। কারণ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রজার্সকে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না টুখেল। ফলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে মাঠেই জবাব দিতে হবে রিয়াল তারকাকে।

ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনের মতে, বেলিংহ্যাম দলের সেই বিশেষ খেলোয়াড়, যিনি এক মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তিনি বলেন, জুডের মধ্যে এমন কিছু আছে যা অন্যদের নেই। বড় মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে।

বিশ্বকাপের আগে বেলিংহ্যাম নিজেও স্বীকার করেছেন, ইউরোতে মাঠের বাইরের পরিবেশ পুরোপুরি ইতিবাচক ছিল না। এবার দলের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক ভালো বলেও মনে করছেন তিনি।

মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বেলিংহ্যামের। তাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে প্রশ্নটা আবারও সামনে এসেছে, ইংল্যান্ডের প্রয়োজনের মুহূর্তে কি আবারও সেই পুরোনো বেলিংহ্যামকে দেখা যাবে?

সময়ের উত্তর সময়ই দেবে। তবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন যদি বাস্তবে রূপ নিতে হয়, তাহলে জুড বেলিংহ্যামের সেরাটা দেখা প্রায় অপরিহার্য। আর সেটিই হয়তো তাকে আবারও ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত করতে পারে। সূত্র: বিবিসি