২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ‘অন্যায্য’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার গ্যারি লিনেকার। তার অভিযোগ, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য কোনো দলের মতো সুবিধা না দিয়ে ইরানকে প্রথম ম্যাচের পরই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পরই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে তাদের অনুশীলন ঘাঁটি মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বলা হয়। অথচ গ্রুপ পর্বে ইরানের কোনো ম্যাচই মেক্সিকোতে নয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও।
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিনেকার বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইরানের সঙ্গে খুবই অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে। ১৯৮৬ সাল থেকে খেলোয়াড় কিংবা সম্প্রচারক হিসেবে আমি প্রায় সব বিশ্বকাপের সঙ্গেই যুক্ত ছিলাম। কিন্তু এমন কোনো বিশ্বকাপ দেখিনি, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের যুদ্ধাবস্থা চলছে। এটি একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।’
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা প্রক্রিয়া এগিয়েছে, সেটির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রতি আরও নমনীয় হওয়া যেত।
লিনেকার বলেন, ‘আশা করি শান্তি চুক্তি টিকে থাকবে। আর যদি সেটি কার্যকর থাকে, তাহলে ইরানকে তাদের ম্যাচ যেখানে হচ্ছে, সেই দেশেই থাকার অনুমতি দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারত।’
তার ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাস, ইরানের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে। তবে তারা মাঠে দারুণ লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে, যা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়েও অভিযোগ করেন, তার দলই ‘এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল’।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ইরানের অনুশীলন ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আবার মেক্সিকোতে ফিরতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মোমবেনি বলেন, ‘আমরাই একমাত্র দল, যারা আয়োজক শহরে মাত্র ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারি। এটি মোটেও ন্যায্য নয়। এসব বিধিনিষেধ আমাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানের পরবর্তী ম্যাচ মিশরের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জিততে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠবে ইরান। ড্র করলেও, অন্য ম্যাচের ফল অনুকূলে থাকলে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের। সূত্র: দ্য মিরর, স্কাই নিউজ।