বিবিসি'র বিশ্লেষণ

বিশ্বকাপের নতুন বলেই কী বাড়ছে গোলরক্ষকদের ভোগান্তি

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

চলতি বিশ্বকাপে একদিকে যেমন গোলরক্ষকদের অসাধারণ সব সেভ দেখা গেছে, অন্যদিকে এমন অনেক গোলও হয়েছে যেখানে বল ছুঁয়েও রক্ষা করতে পারেননি তারা। এতে প্রশ্ন উঠেছে, সমস্যার কারণ কী গোলরক্ষকদের ভুল, নাকি বিশ্বকাপের নতুন ম্যাচ বল?

স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। কুরাসাওয়ের এলয় রুম রেকর্ড ছোঁয়া পনেরোটি সেভ করে দলকে এনে দিয়েছেন প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দও একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেছেন।

তবে এর বিপরীত চিত্রও কম দেখা যায়নি।

ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড, সেনেগালের এদোয়ার মঁদি, আলজেরিয়ার লুকা জিদান কিংবা ইরাকের আহমেদ বাসিল, সবাই এমন গোল হজম করেছেন, যেখানে বলে হাত লাগিয়েও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট ঠেকাতে গিয়েও ব্যর্থ হন ইরাকের গোলরক্ষক বাসিল। এরপরই সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, এমন ঘটনা এত বেশি দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বকাপের বল নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

তার ভাষায়, এতগুলো গোলরক্ষক একইভাবে বল স্পর্শ করেও গোল ঠেকাতে না পারা স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই বলের মধ্যেই কিছু একটা ভিন্নতা রয়েছে।

নতুন বলে কী বদল এসেছে?

চলতি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলের নাম ‘ত্রিওন্দা’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, এটি মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সেলাইয়ের পরিবর্তে পুরো বল বিশেষ প্রযুক্তিতে জোড়া লাগানো হয়েছে।

ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক কাসপার স্মাইকেল মনে করেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট।

তার মতে, বলটি বাতাসে কম বাধার মুখে পড়ে, ফলে গতিবেগ কিছুটা বেশি থাকে। বলের গতি সামান্য বাড়লেও গোলরক্ষকদের প্রতিক্রিয়ার জন্য সেটাই বড় পার্থক্য তৈরি করে।

তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে বল এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে বেশি গোল হয়। এই বলেও সেই প্রবণতা স্পষ্ট।

পরিসংখ্যানও দিচ্ছে ইঙ্গিত

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বক্সের বাইরে থেকে বিশটি গোল হয়েছে। অথচ দুই হাজার বাইশ বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্ব মিলিয়ে এমন গোল ছিল মাত্র দশটি।

গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডারদের ভুল থেকে গোল হওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। এবার এখন পর্যন্ত এমন এগারোটি গোল হয়েছে, যা সাম্প্রতিক কয়েকটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নির্মাতাদের দাবি কী?

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বলটি তৈরিতে সাড়ে তিন বছর গবেষণা করা হয়েছে এবং প্রায় তিনশ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আবহাওয়া ও ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতেও এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাদের দাবি, নতুন নকশা বলকে উড্ডয়নের সময় আরও স্থিতিশীল রাখে এবং ভেজা আবহাওয়াতেও খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে সুবিধা দেয়।

গোলরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ

তবে সাবেক গোলরক্ষকদের মতে, সমস্যার মূল কারণ বলের বাড়তি গতি। সামান্য এই পরিবর্তনও গোলরক্ষকদের প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দিচ্ছে।

কাসপার স্মাইকেলের ভাষায়, আসলে এ ধরণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনেই গোলরক্ষকের খেলায় অনেকখানি প্রভাব ফেলে। আর নতুন বল সেই পরিবর্তনই আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফলে চলতি বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের একাংশের ভোগান্তির পেছনে ব্যক্তিগত ভুলের পাশাপাশি নতুন ম্যাচ বলও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত