এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডার টরন্টোয় ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো পা রেখেছিলেন সদ্যই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তরুণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মাত্র ২৪ বছর বয়সী সেই তারকাকে একনজর দেখতে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন শত শত সমর্থক। প্রায় ১৭ বছর পর একই শহরে ফিরেও প্রায় একই দৃশ্যের সাক্ষী হলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বুধবার (১ জুলাই) টরন্টোয় পৌঁছায় পর্তুগাল দল। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক, ডাউনটাউন, হোটেল ও অনুশীলন মাঠ, সর্বত্রই রোনালদোকে এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় ভিড় করেন হাজারো মানুষ। অনেকেই পর্তুগিজ এই মহাতারকাকে মাত্র এক ঝলক দেখতে ভবনের বারান্দা ও জানালায় দাঁড়িয়ে কিংবা একে অপরের কাঁধে চেপে বসেন।
কানাডায় সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ, আর রাউন্ড অব-৩২ এর নকআউট ম্যাচে পর্তুগাল বিদায় নিলে এটিই হতে পারে বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ। সেই কারণেই তাকে ঘিরে আবেগ ছিল আরও বেশি।
১৭ বছরে অনেক কিছুই পাল্টেছে। ২৪ বছর বয়সী তারকা রোনালদো এখন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা। তবে একটা বিষয় মিলে গেছে কাকতালীয়ভাবে। ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টরন্টো এফসির বিপক্ষে যে স্টেডিয়ামে খেলেছিলেন, এবারও সেই একই মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে পর্তুগাল।
টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে পর্তুগাল দল পৌঁছানোর পর থেকেই শহরজুড়ে শুরু হয় রোনালদো উন্মাদনা। মোটরসাইকেল আরোহীদের একটি দল পর্তুগাল দলের বাসকে হোটেল পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বাইরে এবং অনুশীলন মাঠেও শত শত সমর্থক ভিড় করেন রোনালদোকে এক ঝলক দেখার আশায়।
তবে অনেক সমর্থকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম । পুনর্বিক্রয় বা রিসেল বাজারে কিছু টিকিটের দাম ৩০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত উঠেছে। গত এক সপ্তাহে বেশিরভাগ টিকিটই বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার কানাডিয়ান ডলারে।
টরন্টোর লিটল পর্তুগাল এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী জোয়ি বলেন, পরিবারের দায়িত্বের কারণে এত দাম দিয়ে টিকিট কেনা সম্ভব নয়। তবু নিজের শহরে পর্তুগালকে খেলতে দেখার সুযোগই তার কাছে অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
টরন্টোতে কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে বড় পর্তুগিজ-অভিবাসী সম্প্রদায়। ১৯৫০-এর দশকে উন্নত জীবনের আশায় কানাডায় আসা সেই অভিবাসীদের উত্তরসূরিদের কাছে এই ম্যাচ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং নিজের শিকড় ও বর্তমান পরিচয়ের এক আবেগঘন মিলনমেলা।
পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শ্যানন মেদেইরোস বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে ফুটবলের প্রেমে পড়েছেন তিনি। এখন নিজের দুই ছেলেকেও একইভাবে ফুটবল শেখাচ্ছেন। তার ভাষায়, পর্তুগিজ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় পরিচয়ই হলো ফুটবলকে ঘিরে তাদের গর্ব ও ঐক্য।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে লিটল পর্তুগাল এলাকার বাড়িগুলোতে কানাডা ও পর্তুগালের যৌথ পতাকা, জার্সি ও নানা সাজসজ্জা চোখে পড়ছে। পুরো এলাকাজুড়েই উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।
ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী মেদেইরোসের বিশ্বাস, পর্তুগাল এবারও জয় পাবে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এখন পর্যন্ত দলটি নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি।
অন্যদিকে পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত আরেক সমর্থক জশ মেদেইরোসের ধারণা, ম্যাচটি ২-১ কিংবা ৩-১ ব্যবধানে জিতবে পর্তুগাল। তার মতে, বয়সের কারণে রোনালদোর পক্ষে আগের মতো সবকিছু করা সম্ভব না হলেও, তিনি এখনও তার কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। সূত্র: আলজাজিরা