ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। তবে রাউন্ড অব সিক্সটিনের এই ম্যাচে দুই দলের লড়াইয়ের পাশাপাশি বড় আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে ম্যাচটি ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের জন্য শারীরিক সহনশীলতারও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচ চলাকালে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া ম্যাচটি হবে খোলা আকাশের নিচে, কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। ডালাস, হিউস্টন কিংবা আটলান্টার কয়েকটি ভেন্যুর মতো এখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ থাকছে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ফুটবল খেলা খেলোয়াড়দের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, পেশির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাভাবিক সক্ষমতাও ব্যাহত হতে পারে।

চলতি বিশ্বকাপে তাপপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রুপ পর্বের অন্তত নয়টি ম্যাচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও উঠেছে।

ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রোও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং সৌর বিকিরণের সমন্বয়ে নির্ধারিত ‘ডব্লিউবিজিটি’ সূচক ২৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে সেই ম্যাচ স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তবে ঝুঁকি শুধু ফুটবলারদের জন্য নয়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা হাজারো সমর্থকও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। খোলা পার্কিং এলাকা, দীর্ঘ প্রবেশপথ এবং লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে দর্শকদের মধ্যে পানিশূন্যতা ও হিট স্ট্রোকের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে দুই দলের কৌশল, সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তার পাশাপাশি প্রকৃতিও বড় একটি ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: গ্লোবো, দ্য গার্ডিয়ান।