মেসির ভাস্কর্য নিয়ে তুমুল রসিকতা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে সম্মান জানাতে আর্জেন্টিনায় নির্মিত হয়েছে মেসির বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য। নিউকুয়েন প্রদেশের কাট্রাল কো শহরে স্থাপিত ২৬ মিটার উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি শুধু আকারের জন্যই নয়, নির্মাণের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের কারণেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

জাতীয় মহাসড়ক ২২ এবং ম্যানুয়েল সাভিও সড়কের সংযোগস্থলে স্থাপিত প্রায় ৭০ টন ওজনের এই ভাস্কর্যে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত মেসিকে হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। দুই পায়ের মাঝখানে রাখা হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, আর এক হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করছেন তিনি। নির্মাতাদের দাবি, এর মাধ্যমে ভারতের ২১ মিটার উঁচু মেসি ভাস্কর্যের রেকর্ডও ভেঙে গেছে।

ভাস্কর্যটির নির্মাতা অ্যালদো বেরোইসা জানান, শুরুতে তার পরিকল্পনা ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পরের সেই বিখ্যাত মুহূর্তের মতো মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া। তবে প্রায় ৭০ টন ওজনের স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোয় ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি মাটিতে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দেয়। বিভিন্ন দিক থেকে ভাস্কর্যটির ছবি তুললে ট্রফির অবস্থান এমনভাবে দেখা যায়, যা অনেকের কাছে অনিচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবিগুলো ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় অসংখ্য মন্তব্য, ব্যঙ্গ ও রসিকতা।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এই কোণ থেকে দেখলে বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত লাগে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘ভাস্কর্যটির পেছনে একটি দেয়াল থাকলে হয়তো এমন বিভ্রান্তি তৈরি হতো না।’ কেউ কেউ আবার মেসির নামের সঙ্গে ইংরেজি শব্দ ‘Messy’-এর মিল টেনে পুরো নকশাকেই ‘অগোছালো’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

শুধু ট্রফির অবস্থানই নয়, ভাস্কর্যটির মুখাবয়ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সমালোচকদের দাবি, মুখের আদল লিওনেল মেসির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তবে এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে ভাস্কর অ্যালদো বেরোইসা জানিয়েছেন, মেসির মুখাবয়ব যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রায় তিন মাস সময় ব্যয় করেছেন।

রেকর্ড গড়া এই ভাস্কর্য তাই এখন একই সঙ্গে গর্ব ও বিতর্ক, দুই কারণেই আলোচনায়। একদিকে এটি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক, অন্যদিকে নকশার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।