জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকার এখন পুরো মনোযোগ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইকে সামনে রেখে নিজের স্বভাবসুলভ প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। অনেকের মতে, এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই আরও বড় কিছু অর্জনের তাড়নায় নিজেকে নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করছেন ক্যাসেমিরো।
চলতি মৌসুমে ক্যাসেমিরোর পথচলা ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। একদিকে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছ থেকে পেয়েছেন ব্যাপক ভালোবাসা ও সম্মান। ক্লাব ছাড়ার সময় তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল মৌসুম কাটিয়েছেন।
এবারের মৌসুমে তার খেলায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আক্রমণে অবদান রাখার ক্ষেত্রে। জাপানের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল মৌসুমে তার দ্বাদশ গোল। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের জন্য যা নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ব্রাজিলের হয়ে মিলিয়ে ৯ গোল ছিল তার সর্বোচ্চ সাফল্য।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১২ গোলের মধ্যে ১০টিই এসেছে হেড থেকে। কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে ভেসে আসা বল কাজে লাগিয়ে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলের অন্যতম বড় অস্ত্র। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে, বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত ক্রস থেকে একাধিক গোল করেছেন তিনি। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিও একই কৌশল কাজে লাগাচ্ছেন।
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘আমি সবসময় ছোট ছোট বিষয়কে গুরুত্ব দিই। গ্যাব্রিয়েল আমাকে প্রায় নিখুঁত একটি ক্রস দিয়েছিল, আর সেটাই গোল করতে সাহায্য করেছে।’
তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে তার কঠোর প্রস্তুতি। প্রতি সপ্তাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে নিজের খেলা এবং প্রতিপক্ষের ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন তিনি। কোথায় ভুল হয়েছে, কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, কীভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়, এসব বিষয় খুঁটিয়ে দেখেন ক্যাসেমিরো।
এ জন্য তিনি ব্যবহার করেন পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ওয়াইস্কাউট এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নিজস্ব অ্যানালিটিক্স সিস্টেম। বর্তমানে অনেক ফুটবলার ব্যক্তিগত বিশ্লেষকের সাহায্য নিলেও ক্যাসেমিরো নিজের বিশ্লেষণ নিজেই করেন এবং ধীরে ধীরে একজন স্বনির্ভর বিশ্লেষকে পরিণত হয়েছেন।
তার এই বিশ্লেষণ কেবল গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রক্ষণ, বল দখল, ট্যাকল, পজিশনিং এবং খেলা গড়ে তোলার প্রতিটি দিকেই সমান গুরুত্ব দেন তিনি। আর সেই কারণেই পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
গত প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে ডিফেন্সিভ পরিসংখ্যানে ক্যাসেমিরো ছিলেন সেরাদের একজন। ব্লকের সংখ্যায় তিনি ছিলেন দ্বাদশ এবং ট্যাকলের তালিকায় নবম। চলতি বিশ্বকাপেও প্রতিপক্ষের ওপর সবচেয়ে বেশি ডিফেন্সিভ চাপ সৃষ্টি করা ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং বল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
শুধু প্রতিপক্ষ নয়, ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদেরও আগে থেকেই বিশ্লেষণ করেন ক্যাসেমিরো। কোন রেফারি কতটা কঠোর, কে খেলা বেশি চলতে দেন কিংবা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন, এসব বিষয়ও তার বিশ্লেষণের অংশ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাতও যে তার সেই বিশ্লেষণের তালিকায় রয়েছেন, তা বলাই যায়।