ছেলের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করা জার্সি ফেরত পাচ্ছেন গিল

বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাতারাতি প্যারাগুয়ের জাতীয় নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। কিন্তু সেই বীরত্বগাথার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও গভীর এক গল্প, যেখানে সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিটুকুও বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে গিলের ছেলে লাউতিরোর জন্ম হয় নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখতে হয়, আর চিকিৎসার বিপুল ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে থাকে পরিবারটি।

তখনও গিল ছিলেন না কোনো তারকা ফুটবলার। জাতীয় দলে জায়গা হয়নি, বড় কোনো ক্লাবেও খেলতেন না। সংসারের খরচ আর হাসপাতালের বিল মেটাতে একে একে বিক্রি করে দেন নিজের বুট, খেলার সরঞ্জাম, এমনকি ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-২০ দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়নশিপে প্যারাগুয়ের হয়ে খেলার স্মারক জার্সিটিও।

স্ত্রী মেলিসা আভালোস পরে সেই সময়টিকে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় বলে বর্ণনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ছেলের জন্মের পর তাঁদের কাছে কিছুই ছিল না। প্রয়োজন মেটাতে অরল্যান্ডো নিজের সবকিছু বিক্রি করেছিলেন, এমনকি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দিতে চাওয়া জাতীয় দলের জার্সিটিও।

এরপর সময় বদলাতে শুরু করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারাগুয়ের সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পান গিল। আর চলতি বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে শেষ ষোলোতে তুলে ইতিহাস গড়েন তিনি।

তবে গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি আসে এরপর। বহু বছর আগে গিলকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু পেদ্রো সুয়ারেজ। বিনিময়ে গিল তাঁকে দিয়েছিলেন নিজের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিটি। সেই জার্সি আজও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সুয়ারেজ।

সিএনএনকে তিনি বলেন, গিল কখনোই বিনা কারণে কারও কাছ থেকে টাকা নিতে চাইতেন না। তাই সাহায্যের বদলে জার্সিটি দিয়েছিলেন। এখন সেটি ফেরত দেওয়ার সময় এসেছে। হাসতে হাসতে সুয়ারেজ বলেন, গিল এখনো তাঁর সেই টাকা শোধ করেননি। তবে সেটি আর কোনো বিষয় নয়। তিনি বন্ধুকে সাহায্য করেছিলেন বন্ধুত্বের টানেই। জার্সিটিও তিনি আনন্দের সঙ্গে ফিরিয়ে দেবেন।

গিলের জীবনে দুর্দিন শুধু সন্তানের অসুস্থতায় থেমে থাকেনি। একই সময়ে তিনি হারিয়েছেন নিজের মা ও চাচাকেও। একের পর এক ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। আজ সেই সংগ্রামী গোলরক্ষকের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী প্রায় ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ারও আগে তিনি লিখেছিলেন, একদিন আমি বলব, পথটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি পেরেছি।

বিশ্বকাপে তাঁর অবিশ্বাস্য উত্থানের পর সেই পোস্টের নিচে এখন হাজারো সমর্থকের একই মন্তব্য, 'তুমি পেরেছো।' সূত্র: সিএনএন