কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। তবে সেই সাফল্যের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা। সরাসরি লাল কার্ড দেখার ঘটনায় তাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ফলে শনিবার (১১ জুলাই) নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল তো বটেই, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে জেসুস গালার্দোর ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর প্রায় ৩৬ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও দারুণ লড়াই করে জয় ধরে রাখে ইংল্যান্ড। সেই জয়ই তাদের শেষ আটে তুলে দেয়।

সাধারণত সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হলেও কোয়ানসার ট্যাকলকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে আরও এক ম্যাচ বাড়তি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও নেই ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের। ফলে ইংল্যান্ড যদি ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে, তবেই আবার মাঠে ফেরার সুযোগ মিলবে কোয়ানসার।

এই নিষেধাজ্ঞা টমাস টুখেলের জন্য বড় কৌশলগত ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ রাইট-ব্যাক পজিশনে বিকল্পের সংখ্যা আগেই সীমিত ছিল। দলের প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক রিস জেমস এখনও হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট নন। গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই মাঠের বাইরে থাকা এই ডিফেন্ডার এখনও মূল দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।

জেমসের অনুপস্থিতিতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই রক্ষণভাগে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। পানামার বিপক্ষে কোয়ানসা শুরু করলেও চোটে মাঠ ছাড়েন। পরে জেড স্পেন্স সুযোগ পান, আবার প্রয়োজনের সময় মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকেও রাইট-ব্যাকে খেলাতে হয়েছে টুখেলকে। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা লাল কার্ড দেখার পর শেষ সময়ে সেই দায়িত্ব পালন করেন এজরি কনসা। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে রাইট-ব্যাকে কে খেলবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তবে ইংল্যান্ড শিবির আশাবাদী, রিস জেমস সময়মতো ফিট হয়ে ফিরতে পারবেন। তা না হলে আবারও নতুন সমন্বয়ের পথেই হাঁটতে হবে টুখেলকে। নকআউট পর্বের মতো মঞ্চে যেখানে ছোট একটি ভুলই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, সেখানে রক্ষণভাগের এই অনিশ্চয়তা ইংল্যান্ডের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে আরও একটি বিষয় আলোচনায় আসে। ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত রাখার ফিফার সিদ্ধান্তের পর নিজেদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে টুর্নামেন্টের নিয়মে কোয়ানসার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকায় সেই আলোচনা আর এগোয়নি।

ফিফার ওই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন টমাস টুখেল। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ বলেন, এটার শুরু কোথায়, আর শেষই বা কোথায়? আমরা কি কোয়ানসার লাল কার্ড বাতিল করতে পারি, নাকি পারি না? আসলে কী হচ্ছে?

তিনি আরও বলেন, সীমারেখা কোথায় টানা হবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। এর কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। এখন কি হলুদ কার্ড নিয়েও আপিল করব? কে ঠিক করবে কোনটা লাল কার্ড, আর কোনটা নয়? এই প্রক্রিয়ার শুরু কোথায়, শেষই বা কোথায়?

নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই টুখেলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করা নয়, বরং রক্ষণভাগের এই সংকটের কার্যকর সমাধান বের করাও। ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করবে সেই সমাধান কতটা সফল হয়, তার ওপর।