ক্ষমতাধর ফিফাকে কেন ‘মাথানত’ করতে হলো

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংগঠন হিসেবে পরিচিত ফিফা এবার নজিরবিহীনভাবে ক্ষমা চেয়ে নিজেদের একটি পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেছে। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছে ফিফা।

ফিফার ২১১ সদস্যদেশকে সংস্থাটির নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। সদস্য দেশগুলোর ফুটবল কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ হলে অতীতে বিভিন্ন দেশকে নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ফিফার নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে। বর্তমানে নেপালও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে ফিফাকে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি সংগঠন হিসেবে দেখা হয়, যার সিদ্ধান্তের সামনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে।

তবে এবার সেই ফিফাকেই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষমা চাইতে হলো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়ার পর ফুটবল অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় বড় প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাইয়ের বিনিয়োগের বিষয়টিও সামনে আসে।

পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে ফিফার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে টানাপোড়েনের আলোচনা শুরু হয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে। ফিফার পাঁচ সহসভাপতিও নাকি এ উদ্যোগ সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। এমনকি ফিফার ফুটবল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ফিফার ভেতরেই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর ইনফান্তিনো জরুরি বৈঠক ডাকেন। পরে ফিফার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতি পাঠিয়ে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে বলা হয়, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই পরিকল্পনার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

ফিফা জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনোও প্রকল্পটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে বিশ্বকাপ বা ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলো তুলে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নিয়ে সংস্থাটি আর এগোবে না বলেও জানানো হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ঘিরে ফিফার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও ঘটনা নিয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে অসন্তোষ রয়েছে। ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি, রেফারিকে প্রবেশে বাধা, সংগঠক ও সাংবাদিকদের বিশ্বকাপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের মতো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।