আধুনিক জীবনযাত্রায় স্মার্টফোন এখন অপরিহার্য। কল করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং কিংবা ভিডিও দেখা সবই চলছে এই এক যন্ত্রে। তবে স্মার্টফোনের ডিজাইনে এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয় থাকে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। তেমনই একটি রহস্যময় অংশ হলো ফোনের চার্জিং পোর্টের ঠিক পাশে থাকা একটি ছোট্ট ছিদ্র। অনেকে একে নকশা বা অপ্রয়োজনীয় মনে করলেও, এটি মূলত ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হার্ডওয়্যার।
চার্জিং পোর্টের পাশে থাকা এই ছোট্ট ছিদ্রটি মূলত একটি মাইক্রোফোন। ফোনে কথা বলা, ভয়েস রেকর্ড করা কিংবা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের (যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিরি) সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন এই মাইক্রোফোনের ওপর নির্ভর করে। তবে স্মার্টফোনে শুধু একটি নয়, বরং একাধিক মাইক্রোফোন থাকে।
নয়েজ ক্যানসেলিং ও উন্নত শব্দমান
কেন ফোনে একাধিক মাইক্রোফোন দেওয়া হয়? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কাজ হলো ‘নয়েজ ক্যানসেলিং’ নিশ্চিত করা।
- স্পষ্ট কথোপকথন: আপনি যখন জনাকীর্ণ বা কোলাহলপূর্ণ স্থানে ফোনে কথা বলেন, তখন এই মাইক্রোফোনগুলো চারপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ শনাক্ত করে তা ফিল্টার করে দেয়। ফলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তি আপনার কণ্ঠ স্পষ্ট শুনতে পান।
- ভিডিও রেকর্ডিং: ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিংয়ের সময় একাধিক মাইক্রোফোন একসাথে কাজ করে চারপাশের শব্দের গভীরতা সঠিকভাবে ধারণ করে।
- অনলাইন মিটিং: ভিডিও কনফারেন্সিং বা জুম মিটিংয়ের সময় সাউন্ডের মান উন্নত করতে এই ক্ষুদ্র মাইক্রোফোনটি বড় ভূমিকা পালন করে।
যেহেতু এই ছিদ্রটি অত্যন্ত ছোট, তাই অনেক সময় এতে ধুলোবালি জমে শব্দ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি পরিষ্কার করার সময় সূক্ষ্ম কোনো সুঁচ বা পিন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে ভেতরের সেন্সরটি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সুতরাং, আপনার ফোনের চার্জিং পোর্টের পাশের ওই ছিদ্রটি কেবল আভিজাত্যের অংশ নয়; বরং আপনার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করার একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।