অ্যাপলের ৫০ বছর

দুনিয়া বদলে দেওয়া ৩টি পণ্য, আর ব্যর্থ হয়েছে যেসব

একটি গ্যারেজ থেকে শুরু হওয়া যাত্রা বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তি বিশ্বের আইকন ‘অ্যাপল’ এই সপ্তাহে তাদের ৫০তম জন্মদিন পালন করছে। 

স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক এই দুই বন্ধুর হাত ধরে শুরু হওয়া কোম্পানিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। 

বর্তমান বিশ্বে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন অ্যাপলের কোনো না কোনো পণ্য ব্যবহার করেন। ৫০ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় অ্যাপলের যেমন কিছু যুগান্তকারী সাফল্য আছে, তেমনি আছে কিছু বড় ব্যর্থতাও।

অ্যাপলের ৩টি ‘হিট’ পণ্য

১. আইপড (iPod): ২০০১ সালে বাজারে আসা আইপড গান শোনার জগতকে বদলে দিয়েছিল। সিডি প্লেয়ারের দিন শেষ করে হাজার হাজার গান পকেটে নিয়ে ঘোরার সুযোগ করে দিয়েছিল এই ডিভাইসটি। এর মাধ্যমেই ডিজিটাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাপলের আধিপত্য শুরু হয়।

২. আইফোন (iPhone): ২০০৭ সালে স্টিভ জবস যখন আইফোন উন্মোচন করেন, সেটি ছিল এক বৈপ্লবিক মুহূর্ত। ফোন, ইন্টারনেট ও আইপড এই তিনের সংমিশ্রণ ছিল আইফোন। এটি স্মার্টফোন জগতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৭ সেকেন্ডে বিশ্বে একটি করে আইফোন বিক্রি হয়।

৩. অ্যাপল ওয়াচ (Apple Watch): জবসের উত্তরসূরি টিম কুকের জমানায় এটি অন্যতম বড় সাফল্য। ২০১৫ সালে লঞ্চ হওয়া এই ঘড়িটি বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর স্মার্টওয়াচ। স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে এটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অ্যাপলের ৩টি ‘ফ্লপ’ পণ্য

১. অ্যাপল লিসা (Apple Lisa): ১৯৮৩ সালে বাজারে আসা এই কম্পিউটারটি ছিল গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ও মাউস সম্বলিত প্রথম পিসিগুলোর একটি। কিন্তু এর আকাশচুম্বী দাম (প্রায় ১০ হাজার ডলার) একে ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ করে দিয়েছিল।

২. বাটারফ্লাই কি-বোর্ড (Butterfly Keyboard): ২০১৫ সালে ল্যাপটপে পাতলা ডিজাইন আনতে এই কি-বোর্ড ব্যবহার শুরু করে অ্যাপল। তবে নির্ভরযোগ্যতার অভাব ও টাইপিংয়ে সমস্যার কারণে এটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ২০১৯ সালে অ্যাপল এই ডিজাইন বাতিল করতে বাধ্য হয়।

৩. ভিশন প্রো (Vision Pro): অ্যাপলের সাম্প্রতিকতম উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ভিশন প্রো হেডসেটটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ভারী ডিজাইন এবং চড়া দামের কারণে এটি সাধারণ গ্রাহকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল কেবল হার্ডওয়্যার বিক্রি করে না, তারা একটি ‘স্বপ্ন’ বিক্রি করে। যদিও স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর উদ্ভাবনের গতি কিছুটা কমেছে বলে অনেক অ্যাপল ভক্ত মনে করেন, তবে টিম কুকের নেতৃত্বে কোম্পানিটি তাদের মুনাফা ও ব্রান্ড ভ্যালুকে অনন্য উচ্চতায় ধরে রেখেছে। ৫০ বছর পূর্ণ করার পর আগামী দিনগুলোতে অ্যাপল নতুন কী চমক নিয়ে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।