ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক প্রলয়ংকরী ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারে বুধবার (৪ মার্চ) ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ধস নেমেছে। দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক ‘কোসপি’ (KOSPI) এক দিনেই ১২.২ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে, যা ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পরবর্তী পতনকেও হার মানিয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় টুইন টাওয়ারে হামলার পর কোসপি ১২.০২ শতাংশ এবং ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার সময় ৯.৪৪ শতাংশ পড়েছিল। আজকের এই পতন সেই সব ভয়াবহ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল।
বাজার পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন স্থগিত বা ‘সার্কিট ব্রেকার’ চালু করতে বাধ্য হয়। কোসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি কমলেই এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবারও বাজারটি ৭.২ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছিল। সব মিলিয়ে গত দুই দিন দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারের জন্য কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সময় হিসেবে চিহ্নিত হলো।
যুদ্ধের প্রভাবে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, এসকে হাইনিক্স এবং এলজি ইলেকট্রনিক্সের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টগুলোর শেয়ার দর মারাত্মকভাবে কমেছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে শিপিং ও লজিস্টিক খাতে। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্যান ওশান, এইচএমএম এবং কেএসএস লাইনের মতো শিপিং কোম্পানিগুলোর শেয়ার ১৭ থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
কেবল দক্ষিণ কোরিয়া নয়, যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন বাজারও নিম্নমুখী। গত রাতে ওয়াল স্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি-৫০০ এবং নাসডাক সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে এসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরান এবং লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, তখন পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।