এশীয়ার শেয়ার বাজারে ধস, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১১ ডলার ছাড়ালো

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এশীয় শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও সূচকের ব্যাপক পতন ঘটে।
 
পারস্য উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামোতে যুদ্ধের আঁচ লাগায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে ইরানের হামলার হুমকির পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির একটি নতুন ও ভয়াবহ ঢেউ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
 
টোকিও’র নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.৫ শতাংশ কমেছে। ব্যাংক অফ জাপান সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে বাজারের অস্থিরতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার কস্পি (Kospi) ১.৩ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সাংহাই, তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি (৩.৪ শতাংশ) বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শেয়ার বাজারে দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
 
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক স্টিফেন ইনসের মতে, "উচ্চ তেলের দাম এবং শক্তিশালী ডলারের সমন্বয় এশীয় সম্পদ ও মুদ্রার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করছে।" সূত্র: এপি নিউজ
SN
আরও পড়ুন