ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ আইল্যান্ড’-এ মার্কিন বোমা হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে লেনদেন কিছুটা অস্থিতিশীল থাকলেও দাম চড়া রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০৩.১৭ ডলারে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার ‘ইউএস ক্রুড’-এর দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৯৮.১৪ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের বর্তমান দাম এখনও অনেক বেশি।
জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন দাম টেনে ধরতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মূলত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কমাতেই এই বিশাল মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সোমবার সকালে এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে সামান্য উন্নতির আভাস মিলেছে। জাপানের ‘নিকেই ২২৫’ সূচক ০.২ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোস্পি’ সূচক প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই দুটি দেশের শেয়ার বাজারেই বড় ধরণের ধস নেমেছিল, যা এখন কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ আইল্যান্ডে হামলার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ক্ষমতা বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে, যার রেশ বিশ্ববাজারে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে।