চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরই মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে গতি আনতে নতুন করে আরও দুটি জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভান’ নামের এই জাহাজ দুটি যথাক্রমে বুধবার ও আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) জেটিতে ভিড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ জাহাজটি গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং-এ অবস্থান করছে। জাহাজটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন কার্গো খালাস সম্পন্ন করেছে এবং আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ খালাস প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, জাহাজটি বুধবার মূল বন্দরে ভিড়বে।

জ্বালানি সরবরাহের তালিকায় থাকা দ্বিতীয় জাহাজ ‘এলপিজি সেভেন’ ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে গত ৮ মার্চ কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছায়। ইতিমধ্যে জাহাজটি থেকে প্রায় ৭,০২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। জাহাজটির সম্পূর্ণ খালাস প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ মার্চ।

বর্তমানে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা অধিকাংশ জাহাজ সফলভাবে কার্গো খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের একটি বড় অংশ এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল ও গ্যাস অয়েল সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড থেকে আসা আরও বেশ কিছু জাহাজ ‘প্যাসেজ’ বা বন্দরের পথে রয়েছে।

দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি খালাস কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, ‘জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করছি।’