দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এলাকাভেদে অটোরিকশায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হলেও মোটরসাইকেল এতদিন এই আওতার বাইরে ছিল। সোমবার (৩০ মার্চ) বাজেট সংশ্লিষ্ট এক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন কর প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মোটরসাইকেলে করের হার (প্রস্তাবিত):
সূত্র অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সিসি অনুযায়ী করের হার হবে নিম্নরূপ:
১১০ সিসি পর্যন্ত: কোনো আয়কর দিতে হবে না।
১১১ থেকে ১২৫ সিসি: বছরে ২,০০০ টাকা।
১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি: বছরে ৫,০০০ টাকা।
১৬৫ সিসির বেশি: বছরে ১০,০০০ টাকা।
বিআরটিএ-র তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার। যদি ১১০ সিসির নিচের ১০ লাখ বাইক বাদ দেওয়া হয়, তবে বাকি ৩৮ লাখ বাইক থেকে গড়ে ৪ হাজার টাকা করে কর আদায় করা গেলে সরকারের বছরে প্রায় ১,৫২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে।
বাংলাদেশে গত এক দশকে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও বাজাজের মতো বড় কোম্পানিগুলো বিপুল বিনিয়োগ করেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই কর আরোপের ফলে মোটরসাইকেলের বিক্রি ও উৎপাদন কমে যেতে পারে। হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর এর বড় প্রভাব পড়বে, যা সামগ্রিক শিল্প ও নতুন বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, এই অগ্রিম কর মূলত ফিটনেস নবায়নের সময় দিতে হবে। তবে এটি চূড়ান্ত কর নয়; বরং বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করদাতারা এই অর্থের বিপরীতে রিবেট বা সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, রাজস্ব আদায়ের প্রেক্ষাপটে এটি কার্যকর হতে পারে। তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি বাড়তি আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা দেবে।