দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সাথে মার্কিন ডলারের দরপতন এবং তেলের দাম কমে যাওয়া সোনার বাজারকে আরও চাঙ্গা করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত ২৩ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম বাড়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে:
১. শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে শান্তিচুক্তির আলোচনা বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
২. তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি: যুদ্ধের উত্তেজনা কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
৩. দুর্বল ডলার: আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্য মুদ্রাধারীদের জন্য সোনা কেনা সাশ্রয়ী হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ধাতুটির চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি সত্যিই স্থিতিশীলতার দিকে যায়, তবে সোনার বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে ধস, দেশেও কি কমবে দাম