মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একই সঙ্গে এটি সাপ্তাহিক লাভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সময় সকাল ১০টা ০৬ মিনিটে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৪,১৭৬.২৯ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মূল্যবান এই ধাতুর দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,১৮৮.৮০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারে (২ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অকৃষি খাতে মাত্র ৫৭,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা এই সংখ্যা অন্তত ১,১০,০০০ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির এই মন্থর গতির কারণে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, এই তথ্য প্রকাশের আগে সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা যেখানে ৬৬ শতাংশ ছিল, তা এখন কমে ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সোনা বা অলাভজনক সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।
কর্মসংস্থানের এই হতাশাজনক তথ্যের পর মার্কিন ডলারের দামও গত এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের মুখে পড়েছে। ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানিয়েছে, গত মে মাসে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভে আরও ৪১ মেট্রিক টন সোনা যুক্ত করেছে।
কিছু ব্যাংক নিজেদের মুদ্রা সুরক্ষায় স্বর্ণ বিক্রি করলেও দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই বিপুল চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এছাড়া সোনার পাশাপাশি রূপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামও এ সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।