মার্কিন বিনিয়োগে বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

বাংলাদেশে আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নীতিগত সহায়তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করছে।

শনিবার, (৪ জুলাই ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকার বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ, উদার অর্থনৈতিক নীতি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর–সুবিধাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, অতীতে অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল তা দূর করে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বিশেষভাবে উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বিনিয়োগ রোডশো আয়োজন এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সফল মার্কিন বিনিয়োগ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আকৃষ্ট করবে। অনুষ্ঠানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখায় অ্যামচেম ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান তিনি।