কর হ্রাসের সুফল বাজারে না পৌঁছানোর অভিযোগ ক্যাবের

সরকারের বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর হ্রাস করা হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব এখনো খুচরা বাজারে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেছেন, কর কমানোর ফলে আমদানি ও বাজারজাত ব্যয় কমার কথা থাকলেও চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা, খেজুরসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বরং কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে ছাড় দিলেও সাধারণ ভোক্তা তার কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নতুন বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো নতুন কর আরোপ করা হয়নি। বরং ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন বীজসহ কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সব ধরনের ভোজ্যতেলের উৎসে করও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, কর হ্রাসের ফলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে বাজারে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজেট ঘোষণার পর ক্যাব প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বাজারে থাকা অধিকাংশ পণ্য আগের বেশি শুল্ক ও ব্যয়ে আমদানি করা হয়েছে। নতুন চালান বাজারে এলে তখন দাম সমন্বয় করা হবে। কিন্তু যেসব পণ্যের ওপর কর বা শুল্ক বেড়েছে, সেগুলোর দাম তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বৈপরীত্য বাজারে দ্বৈত নীতিরই প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজার তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকার অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই বেশি সক্রিয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ক্যাবের এই নেতা আরও বলেন, বাজেটে আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ বিভিন্ন মসলার দাম আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা নতুন চালানের অজুহাত দিলেও বাস্তবে করছাড়ের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকেও কর কমানো পণ্যের দাম হ্রাস পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের বাজারে কঠোর নজরদারি জোরদার, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কর ছাড়ের পুরো সুফল ভোক্তা পর্যায়ে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।