ইভি সম্প্রসারণে প্রধান বাধা বিদ্যুৎ সংকট: ডিসিসিআই সভাপতি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারের সম্ভাবনা বাংলাদেশে উজ্জ্বল হলেও বিদ্যুৎ সংকট, চার্জিং অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীতে ডিসিসিআই ও বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন ঘটছে, যেখানে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে এই খাতের বিকাশে চার্জিং অবকাঠামো উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগে প্রণোদনা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিকাঠামো তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ থ্রিহুইলার চলাচল করলেও বিআরটিএ নিবন্ধিত ইভি গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৬৬৯টি, যা এ খাতের সীমিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

বিইপিআরসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, ইভি খাতের সফলতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা জড়িত থাকায় একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম বা সেল গঠন করা হলে কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, ইভি খাতের নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তা পরিমার্জন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশে ইভি নিবন্ধনের সরকারি পরিসংখ্যান কম হলেও বাস্তবে সড়কে আরও বেশি ইভি চলাচল করছে। চার্জিং স্টেশন স্থাপন, মান নিয়ন্ত্রণ, শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তার ওপর তারা গুরুত্ব আরোপ করেন।

অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ইভি খাত কর্মসংস্থান, জ্বালানি সাশ্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সেমিনার শেষে ইভি খাতের উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণে ডিসিসিআই ও বিএসআরইএর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

Attr/AHA
আরও পড়ুন