গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে টেকসই পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরিতে ঢাকায় সভা করেছে আইডিই বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এ সভায় বর্তমান ও সম্ভাব্য বেসরকারি খাতের অংশীদাররা অংশ নেন। এতে কৃষি, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পুষ্টি এবং জলবায়ু-সহনশীল খাতের বিভিন্ন বাজারভিত্তিক উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আইডিই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশীদারদের পণ্য, নমুনা, প্রযুক্তি ও সেবা নিয়ে ১৭টি প্রদর্শনী স্টল ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল গ্রামীণ ড্যানোন ফুডস লিমিটেড, এটেক, সিপিআইএল, আবেদিন ইকুইপমেন্ট লিমিটেড, বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড বাংলাদেশ, টিএমএসএস, সার্পভ, আরএফএল, সেফপ্যাড বাংলাদেশ, মেটাল, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, এসিআই পিএলসি, লাল তীর সিড লিমিটেড, রুরাল সান পাওয়ার, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি ও এসএমসি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন আইডিই গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিড অ্যান্ড্রু পিটারসন। তিনি বাজারভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে, তা তুলে ধরেন। কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ শুধু সহায়তা গ্রহণকারী নন; তাঁরা একই সঙ্গে ক্রেতা, উৎপাদক ও উদ্যোক্তা। পণ্যের উপযোগী পরিবর্তন, সরবরাহব্যবস্থার শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানোর নেটওয়ার্ক এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরিতে আইডিই কাজ করছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে ক্ষমতায়িত করার বৈশ্বিক লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।
আইডিই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সমীর কারকি বলেন, বেসরকারি খাতের অংশীদারেরা এমন পণ্য ও সেবা সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারেন, যা গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছায়। তিনি আইডিই বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কৌশলের আওতায় যৌথ উদ্যোগ, সহবিনিয়োগ ও পণ্য উদ্ভাবনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ কৌশল আইডিইর বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক।
অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লাল তীর সিডের পরিচালক তাজওয়ার এম আওয়াল, এসএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন, আরএফএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সুকান্ত দাস, সেফপ্যাড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিদ কে. চৌধুরী, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. তৌহিদুল আলম খান, বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেডের কান্ট্রি লিড, ফিল্ড সলিউশনস অ্যান্ড ক্রপসায়েন্স গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের রাজাউল করিম, টিএমএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাদিদ জামিল, আবেদিন ইকুইপমেন্ট লিমিটেডের মো. আমির হোসেন এবং আরএসপির মো. নাজমুল হাসান। তাঁরা বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বাজার উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইডিই বাংলাদেশ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের সুযোগ বাড়াতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য, সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়া।
আইডিই বাংলাদেশ সম্পর্কে
আইডিই একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা। বাজারভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের আয় ও জীবিকার সুযোগ তৈরিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে উদ্যোক্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পণ্য, সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই সংস্থাটির কার্যক্রমের অংশ।