পাঞ্জাবির নকশার সমালোচনা নিয়ে জবাব দিল আড়ং

ঈদ ও পহেলা বৈশাখের উৎসবের এই সময়ে বাজারে নতুন ডিজাইনের অনেক পোশাক এনেছে দেশে জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড আড়ং। এর মধ্যে একটি পাঞ্জাবির ডিজাইন নিয়ে সমালোচনা চলছে। অনেকে দাবি করছেন খয়েরি রঙেয়ের ওই পাঞ্জাবির বুকে সমকামিতার প্রতীক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অবশেষে এই সমালোচনার জবাব দিয়েছে আড়ং। বিষয়টিকে স্রেফ গুজব ও অপপ্রচার উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে সোমবার (১ এপ্রিল) বিবৃতি দিয়েছে আড়ংয়ের মূল প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের মিডিয়া টিম। বিবৃতিতে আড়ং বলেছে, এই উৎসবকালীন সময়ে আড়ংয়ের সুনামহানি করার জন্য একটি গোষ্ঠী মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, যেন মানুষের মনে আড়ং সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হয় এবং বিক্রয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এতে বলা হয়, ঈদ এবং পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের উদ্যোক্তারা সারা বছর প্রস্তুতি নেন, যা তাঁদের ব্যবসায়ের প্রধান মৌসুম। অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই উৎসবকালীন সময়ে আড়ংয়ের সুনামহানি করার জন্য একটি গোষ্ঠী মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, যেন মানুষের মনে আড়ং সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হয় এবং বিক্রয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিবৃতিতে আড়ংয়ের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরে বলা হয়, ‘আড়ং বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের অসাধারণ নৈপুণ্য, আমাদের ক্রেতাদের দেশীয় হস্তশিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং ব্র্যাকের অব্যাহত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে আজ বাংলাদেশের একটি অতি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে, যা বাংলাদেশের সৌন্দর্য, সম্ভাবনা এবং অনন্য পরিচয় বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। পৃথিবীর খুব কম দেশে আড়ংয়ের মতো ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে, যা নিজের দেশের হস্তশিল্পকে এত প্রসারিত করতে পেরেছে। ঈদ ও পহেলা বৈশাখসহ বছরব্যাপী নানা উৎসব আয়োজনে, দৈনন্দিন প্রয়োজনে এবং জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত পালনে আপনারা সব সময় আড়ংকে বেছে নিয়েছেন। এ জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে ৪৬ বছর আগে আড়ংয়ের জন্ম। আজ সারা বাংলাদেশে ২৯টি আউটলেট ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৭৫ হাজার কারুশিল্পী এবং তাদের পরিবারের আয় আড়ংয়ের সঙ্গে যুক্ত, যাদের অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত নারী। এছাড়াও প্রায় ৫ হাজার কর্মী আড়ংয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন। যাত্রা শুরুর পর থেকে আড়ং অক্লান্তভাবে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে মূলধারায় জনপ্রিয় করেছে, পাশাপাশি দেশে-বিদেশে দেশীয় পণ্যের বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আড়ংয়ের লাভের অর্ধেক অর্থ দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ঈদ ও পহেলা বৈশাখসহ বছরব্যাপী নানা উৎসব আয়োজনে, দৈনন্দিন প্রয়োজনে এবং জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত পালনে আপনারা সব সময় আড়ংকে বেছে নিয়েছেন। এজন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আড়ং বিরোধী গুজব ও অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়ে, বাংলাদেশে জন্ম ও গড়ে ওঠা ব্র্যান্ড আড়ং এবং দেশের কারুশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’