হার্ট অ্যাটাক জয় করে বাইকে বিশ্ব ভ্রমণে ৭৭ বছরের স্টিভেন বারনেট

অনেকে মনে করেন ৭৭ বছর বয়স মানেই অবসরের দিনলিপি। কিন্তু স্টিভেন বারনেটের কাছে এটি কেবলই একটি সংখ্যা। গত বছর ভয়াবহ এক হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। শরীরে বসেছে স্টেন্ট। তবুও দমেনি তাঁর অদম্য সাহস। এবার সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে মোটরবাইকে চড়ে সারা পৃথিবী ঘোরার বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পথে নামছেন এই লস অ্যাঞ্জেলেস জাত অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।

বারনেট ১৫ বছর বয়স থেকে বাইক চালাচ্ছেন। গত পাঁচ দশকে তিনি প্রায় ৮০টি দেশ ঘুরেছেন। তবে এবারের অভিযানটি হবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ। আগামী ৭ মার্চ স্পেনের মাদ্রিদ থেকে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছে। ২৭টি দেশ পাড়ি দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য তাঁর। এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে এই অভিযান শেষ করতে।

গত বছর যখন তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে হাতে সময় খুব বেশি নেই। বারনেট বলেন, ‘আপনি কখনোই পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারবেন না, কিন্তু সেটি হাত গুটিয়ে বসে থাকার অজুহাত হতে পারে না। হার্ট অ্যাটাক আমার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।’

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ বারনেটকে নিশ্চিত করেছে যে, সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে একাকী বাইকে বিশ্ব ভ্রমণের কোনো রেকর্ড বর্তমানে নিবন্ধিত নেই। সফল হলে বারনেটই হবেন এই রেকর্ডের মালিক। এই অভিযানে তিনি ব্যবহার করবেন একটি নতুন ‘সুজুকি ডিআর-৬৫০’ মডেলের বাইক, যা তিনি বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করে নিয়েছেন।

বারনেটের রুটটি বেশ বৈচিত্র্যময়। মাদ্রিদ থেকে তিনি ফ্রান্স, ইতালি, তুরস্ক হয়ে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানে যাবেন। এরপর চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ঘুরে উড়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখান থেকে দক্ষিণ আমেরিকার চিলি, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া হয়ে ফিরে আসবেন পানামায়, যেখানে তিনি গত দুই দশক ধরে বসবাস করছেন।

বারনেট জানান, ভ্রমণের সময় তিনি একা থাকলেও তাঁর বাইকের পেছনে থাকবে একটি খেলনা রাকুন, যার নাম রেখেছেন ‘রকি’। এটি বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে আলাপচারিতা শুরু করতে সাহায্য করে বলে জানান তিনি। এছাড়া তাঁর সাথে থাকবে একটি ম্যান্ডোলিন। যেখানেই সুযোগ পাবেন, স্থানীয় সুরের সাথে নিজের সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাবেন তিনি।

৭৭ বছর বয়সে একা এমন দীর্ঘ যাত্রায় কিছু ঝুঁকি থাকলেও বারনেট বেশ সতর্ক। তিনি বলেন, ‘৫০ বছর বয়সে যেভাবে বাইক উল্টে গেলে টেনে তুলতাম, এখন হয়তো তা পারব না। তাই আমাকে অনেক বেশি সাবধানে চালাতে হবে।’ তাঁর এই অদম্য ইচ্ছা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।