বিশ্বজুড়ে পর্যটনের চেনা মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। প্যারিস বা রোমের মতো ভিড়ভাট্টার চেনা শহরগুলো ছেড়ে ভ্রমণপিপাসুরা এখন খুঁজছেন অজানার স্বাদ আর নিরিবিলি রোমাঞ্চ। সেই ধারায় ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বখ্যাত ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের তালিকায় অন্যতম চমক হিসেবে উঠে এসেছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া।
বিবিসি ট্রাভেল-এর বিশেষ প্রতিবেদনে দেশটিকে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা এবং ‘টেকসই পর্যটন’ গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজকের পর্বে থাকছে ‘আফ্রিকার স্লিপিং বিউটি’ আলজেরিয়ার বিস্তারিত।
নিদ্রা ভেঙে জেগে ওঠা এক রূপসী
আলজেরিয়াকে দীর্ঘকাল পর্যটন বিশ্বের ‘স্লিপিং বিউটি’ বা ঘুমন্ত সুন্দরী বলা হতো। এর প্রধান কারণ ছিল দেশটির অত্যন্ত জটিল ভিসা পদ্ধতি। তবে ২০২৬ সালকে সামনে রেখে সেই বাধা দূর হয়েছে। আলজেরিয়া সরকার এখন সুসংগঠিত ট্যুরিস্ট গ্রুপের জন্য ‘ভিসা-অন-অ্যারাইভাল’ সুবিধা চালু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ পর্যটক টানার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তারা নির্ধারণ করেছে, এটি তারই অংশ।
ভ্রমণ শুরু হয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের রাজধানী আলজিয়ার্স থেকে। শহরটি তার প্রাচীন ফিনিশীয় স্থাপত্য এবং ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রভাবের এক অনন্য মিশ্রণ।

অন্যদিকে, ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘কনস্টানটাইন’ শহরটি পর্যটকদের জন্য এক বিস্ময়। খাড়া পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই শহরটি তার ঝুলন্ত সেতু এবং কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত।

ইতালির বাইরে সবচেয়ে সুসংরক্ষিত রোমান ধ্বংসাবশেষ দেখতে চাইলে যেতে হবে আলজেরিয়ার তিমগাদ (Timgad) এবং দজেমিল (Djémila)-তে। রোমের মতো এখানে পর্যটকদের কোনো লম্বা লাইন নেই, নেই কোনো কোলাহল। আপনি নিভৃতে কয়েক হাজার বছরের পুরোনো শহরের রাস্তায় হাঁটতে পারবেন।

আর রোমাঞ্চের খোঁজে যারা আছেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সাহারা মরুভূমি। মরুদ্যান শহর জানেত (Djanet) এখন সাহারা অভিযানের অন্যতম প্রধান হাব, যেখান থেকে উটের পিঠে চড়ে বা ফোর হুইলার জিপে চড়ে হারিয়ে যাওয়া যায় বালিয়াড়ির গহীনে।

এবারের ভ্রমণ তালিকায় আলজেরিয়ার স্থান পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো দেশি সংস্কৃতি সংরক্ষণ। আলজেরিয়া সরকার প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার স্থানীয় হস্তশিল্পীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে পর্যটকরা কেবল দেশ ভ্রমণই করেন না, বরং সরাসরি স্থানীয় মানুষের তৈরি পণ্য কিনে তাদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ব্যবস্থা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতকে অনেক সাশ্রয়ী ও সহজ করেছে।
কেন ২০২৬ সালেই আলজেরিয়া যাবেন?
- ভিসা সহজীকরণ: নতুন অন-অ্যারাইভাল ভিসা নীতি।
- ভিড়হীন গন্তব্য: চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো অতিরিক্ত ভিড় নেই।
- প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য: চেরি বাগান থেকে শুরু করে বিশ্বের বিখ্যাত খেজুরের সমারোহ এবং সাহারার রুক্ষ রূপ।
- সংস্কৃতি: আধুনিকতা ও প্রাচীন ঐতিহ্যের এক বিরল ভারসাম্য।
২০২৬ সালের অদেখা পৃথিবীর সন্ধানে আলজেরিয়া হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। আমাদের আগামী পর্বে থাকছে লুকিয়ে থাকা আরেকটি চমৎকার গল্প। সে পর্যন্ত চোখ রাখুন আমাদের বিশেষ এই সিরিজে।

