বিশ্বের সুন্দরতম উপকূল

যেভাবে ভ্রমণ করবেন নিউজিল্যান্ডের তাসমান দ্বীপ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপে পা রাখা পর্যটকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট থাকে লেক টেকাপো থেকে মাউন্ট কুক, কিংবা দুঃসাহসিক কুইন্সটাউন থেকে মিলফোর্ড সাউন্ডের জলপ্রপাত। কিন্তু এর বাইরেও এমন এক অঞ্চল রয়েছে যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কানায় কানায় পূর্ণ, অথচ পর্যটকদের নজরে অনেকটাই আড়ালে। সেই জায়গাটির নাম ‘নেলসন তাসমান’।

দীর্ঘদিন ধরে নেলসনকে কেবল উত্তর থেকে দক্ষিণ দ্বীপে যাওয়ার প্রবেশপথ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু স্থানীয়রা মনে করেন, এটি এমন এক জায়গা যেখানে দক্ষিণ দ্বীপের আদিম রূপ এবং উত্তর দ্বীপের মনোরম আবহাওয়ার নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটেছে। নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল এলাকাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। রিচমন্ড এবং আর্থার পর্বতমালা একে ঝড়-বৃষ্টি থেকে আড়াল করে রাখে, ফলে এখানে আকাশ থাকে নীল আর রোদেলা।

অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ হলো অ্যাবেল তাসমান ন্যাশনাল পার্ক। ১৭শ শতাব্দীর ডাচ নাবিক অ্যাবেল তাসমানের নামানুসারে এর নামকরণ। এখানকার উপকূলকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সমুদ্রতট বলা হয়। বেশিরভাগ এলাকায় পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হলো নৌকা। সোনালি বালু, টলটলে নীল পানি আর ঘন সবুজ অরণ্য সব মিলিয়ে এক জাদুকরী পরিবেশ। পর্যটকরা এখানে ক্যাম্পিং করতে পারেন (প্রতি রাত ২১ নিউজিল্যান্ড ডলার থেকে শুরু) অথবা কাঠের তৈরি কেবিনে বিলাসবহুল সময় কাটাতে পারেন।

বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় চারদিকে শোনা যায় শত শত পাখি আর পতঙ্গের সুর। অরণ্যের পাঁচটি স্তরে ছড়িয়ে আছে ১২ ধরণের অর্কিড। কোনো গাছের পাতা এতই শক্ত যে তা দিয়ে ছেঁড়া জুতো মেরামত করা যায়, আবার কোনো গাছ দেখতে মানুষের হাতের মতো, যেন পর্যটককে অভিবাদন জানাচ্ছে। এখানে কয়েক হাজার বছরের পুরনো গাছও রয়েছে।

২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া ২০০ কিলোমিটারের এই ‘গ্রেট টেস্ট ট্রেইল’ সাইক্লিস্টদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রামের ছোট ছোট শহর, নীল সমুদ্রের পাড় আর আঙুর বাগান বা ফলের বাগানের মাঝ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পথে থামলেই মিলবে স্থানীয় তাজা খাবার আর ওয়াইন। সাইকেল চালানোর জন্য খুব বেশি ফিট হওয়ার প্রয়োজন নেই, পর্যটকরা চাইলে ই-বাইভ (ইলেকট্রিক সাইকেল) ভাড়া নিতে পারেন।

ভ্রমণের সাথে যখন আধ্যাত্মিকতা যুক্ত হয়, তখন তা আরও গভীর হয়। ‘ওয়াকা অ্যাবেল তাসমান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের ঐতিহ্যবাহী মাওরি কায়াক বা নৌকায় ঘোরার সুযোগ দেয়। ভ্রমণের সময় গাইডরা মাওরি ভাষা, ঐতিহ্য এবং স্থানীয় দ্বীপগুলোর পবিত্রতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন। উপকূলীয় শহর কাইতেরিতেরি (Kaiteriteri) হলো এই অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র, যেখানে সমুদ্রের ধারে বসে আইসক্রিম খাওয়া বা নীল জলে শরীর ভাসানো পর্যটকদের প্রিয় কাজ।

একবার নেলসন তাসমান এলাকায় পা রাখলে পর্যটকরা তাঁদের পরবর্তী সব পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়ে সেখানেই থেকে যেতে চান। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে জীবনের সেরা একটি গন্তব্য।

NB/
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত