যুদ্ধ থামানোর আলোচনার মাঝেই ইউক্রেন-রাশিয়ার ৪শ বন্দিবিনিময়

দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়লেও বড় ধরনের এক যুদ্ধবন্দি বিনিময় সম্পন্ন করেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) উভয় দেশ একে অপরের ২০০ জন করে মোট ৪০০ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।

গত মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষই মোট ৫০০ জন করে বন্দি বিনিময়ে একমত হয়েছিল। সেই চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার ৪০০ জনকে মুক্তি দেওয়া হলো। অবশিষ্ট ৩০০ জন করে বন্দিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে বলেন, ‘আজ ২০০টি ইউক্রেনীয় পরিবার তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বার্তাটি পেয়েছে তাদের প্রিয়জনরা ঘরে ফিরছে। এটি আমাদের পুরো দেশের জন্য এক আনন্দের খবর।’ এই বিনিময় সফল করতে সহায়তার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ইউক্রেনীয় মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেটস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বাস থেকে নেমে ইউক্রেনের পতাকা জড়িয়ে সৈন্যরা ‘গ্লোরি টু ইউক্রেন’ বলে চিৎকার করছেন এবং প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরছেন। অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের সেনাদের পতাকা জড়িয়ে উল্লাস করতে করতে বাসে ওঠার দৃশ্য প্রকাশ করেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই যুদ্ধ চার বছরে পা দিয়েছে। সুইজারল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও তা বর্তমানে কোনো ফল দিচ্ছে না। বিশেষ করে দোনেৎস্ক অঞ্চলের দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ কাটছে না। রাশিয়া ওই অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ এলাকা দাবি করলেও ইউক্রেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে দ্রুত সক্রিয় হতে হবে এবং একটি চুক্তি করতে হবে।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের ইতি টানতে ‘চুক্তি করতে প্রস্তুত’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেনের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা চলছে। জবাবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করাই ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার এবং আমেরিকা ও ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে তারা বদ্ধপরিকর।