ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

রাতভর রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৯ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ও শিল্প এলাকায় এই বিধ্বংসী হামলা চালায় রুশ বাহিনী।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে ৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজধানী কিয়েভে ভোররাতের দিকে হওয়া এই হামলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, হামলায় রাজধানীর দুটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, শত্রু পক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালাচ্ছে। হামলার সময় কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

গত মাসে ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে এই "পদ্ধতিগত হামলা" চালানো হবে বলে গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল মস্কো। স্টারোবিলস্কের ওই ছাত্রাবাসে হামলার ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছিল বলে রাশিয়ার দাবি করেছিল।

যদিও ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ২১-২২ মে-র সেই হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কোনো বেসামরিক ছাত্রাবাসে নয়, বরং রাশিয়ার একটি সামরিক ইউনিটে আঘাত হেনেছিল। রাশিয়ার এই হুমকিকে ইউক্রেন "লজ্জাহীন ব্ল্যাকমেইল" হিসেবে আখ্যা দিয়ে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতেই তাঁর ভিডিও বার্তায় গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তার প্রতি বিশেষ নজর দিতে বলেছিলেন।

ভোররাতে কিয়েভে ড্রোনের গুঞ্জন এবং এক ডজনেরও বেশি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মেয়রের তথ্যমতে, হামলার কারণে একটি গ্যাস স্টেশন, একটি নির্মাণাধীন এলাকা, বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং দুটি বাড়ির কাছাকাছি আগুন লেগে যায়। কিয়েভজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরের একটি শিল্প কারখানাতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রাসনোদর ক্রাই অঞ্চলের জরুরি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর সেখানকার ‘ইলস্কি তেল শোধনাগারে’ আগুন লেগেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের অপর এক ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছিল, যাকে রুশ হামলার বিপরীতে "সম্পূর্ণ ন্যায্য" প্রতিক্রিয়া বলে দাবি করেছিলেন জেলেনস্কি।

মে মাসে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এর আগে একটি ফ্ল্যাট ব্লকে রুশ হামলায় ৩ শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন