ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুগপৎ হামলার আজ অষ্টম দিন। শান্তি আলোচনা চলমান অবস্থায় এই অযাচিত আগ্রাসনের জবাবে তেহরান ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা শুরু করে।
আক্রান্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা ‘আরব লিগের’ সদস্য।
আজ এই হামলার জেরে ইরানকে এক হাত নিয়েছেন আরব লিগের মহাসচিব। তিনি বলেন, আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ‘বেপরোয়া’ হামলা চালাচ্ছে এবং এই উদ্যোগ একটি ‘বড় ধরনের কৌশলগত ভুল।’
রোববার (৮ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত। তিনি মিশর থেকে এই সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন।
সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইরানের এসব হামলা ‘কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’
তিনি দাবি করেন, আক্রান্ত আরব দেশগুলো ‘চলমান যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না’।
‘তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালাতে পারবে না বা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করেও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হবে না। এ বিষয়গুলো ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে’, দাবি করেন মহাসচিব ঘেইত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল ওমান। তবে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
আবুল ঘেইত বলেন, ওমান, কাতার ও মিশরসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলকে যুদ্ধের নিদারুণ আঘাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে একই কায়দায় বার্লিন তেহরানকে নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১১২ জন। পাশাপাশি, বাহরাইনের একটি পানি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
অপরদিকে, কুয়েতের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান বোমাবর্ষণের মধ্যেই ইরান এসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।