ইরান যুদ্ধের ১২তম দিন, যা ঘটলো

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বুধবার (১১ মার্চ) দ্বাদশ দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা হয়েছে এবং নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও, যেখানে তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা গেছে।

ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, এসব হামলায় আবাসিক ভবন, হাসপাতাল এবং চিকিৎসা কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর সেখানে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে বলে জানিয়েছে ইরানের ত্রাণ সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন।

এর পাল্টা হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, খোরামশাহর নামের ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে বহু ধাপে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল তেল আবিব, হাইফা এবং পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। পাশাপাশি ইরবিল, মানামা ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, মঙ্গলবারের (১০ মার্চ) হামলা হতে পারে এ পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র। রাজধানী তেহরানের অন্তত আটটি জেলায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং দেশের আরও কয়েকটি শহরেও হামলার আওয়াজ শোনা গেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে এবং নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ২৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে, যদিও কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে পড়ে। বাহরাইনেও জরুরি সাইরেন বেজে ওঠার পর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় তেল শোধনাগার রুয়াইস ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

ওয়াশিংটনে এই যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে প্রকাশ্য শুনানির দাবি তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, অপারেশন শুরুর পর থেকে প্রায় ১৪০ মার্কিন সেনা আহত এবং সাতজন নিহত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে একটি ইরানি মেয়েদের স্কুলে হামলায় প্রায় ১৭৫ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এদিকে লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত সপ্তাহ থেকে সেখানে অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত