কাতারে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

কাতারের জলসীমায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হওয়া সামরিক হেলিকপ্টারটিতে থাকা সাত আরোহীর সবার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

রোববার (২২ মার্চ) ভোরে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কাতার ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। বাকি তিনজন তুরস্কের নাগরিক। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুর্কি নাগরিকদের মধ্যে একজন সেনাসদস্য এবং অন্য দুজন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাসেলসান’ (Aselsan)-এর নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি একটি রুটিন মিশনে ছিল। উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে এটি বিধ্বস্ত হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পেছনে কোনো শত্রুতামূলক হামলা বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাতার সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তুরস্কও এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছিল যে, সাত আরোহীর মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ অপর সদস্যের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও কাতার ও তুরস্ক উভয় দেশই এটিকে নিছক যান্ত্রিক বিপর্যয় হিসেবেই দেখছে। নিহত তুর্কি নাগরিকদের মরদেহ নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।