যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ইরানই জয়লাভ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ফারসি নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
বেলারুশ ও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ‘মেহের নিউজ’ জানিয়েছে, লুকাশেঙ্কো এই যুদ্ধকে ‘অকারণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও ইরান সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, কয়েক হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে ইরানের জনগণ সব বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে। তারা সাহসিকতার সঙ্গে সংকট মোকাবিলা করে নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং শেষ পর্যন্ত তারাই বিজয়ী হবে।’
লুকাশেঙ্কো তার বার্তায় নওরোজকে নতুন সূচনা, পুনর্গঠন এবং বংশপরম্পরায় দৃঢ় সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক ও তেহরানের সম্পর্ক বর্তমানে বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। উভয় দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করছে।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও নওরোজে ইরানি নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তেহরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। পুতিন ইরানকে রাশিয়ার ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। আজ রোববার (২২ মার্চ) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ২৩তম দিনে পদার্পণ করেছে।