ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার শঙ্কা, ঝুঁকিতে আরব দেশগুলো

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জোরালো হামলার বিষয়ে ভয়াবহ সতর্কতা জারি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যালান আইয়ার সতর্ক করেছেন যে, এই কেন্দ্রে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ বা লিক হলে পারস্য উপসাগরের অপর পাশে থাকা দেশগুলো মারাত্মক তেজস্ক্রিয়তার মুখে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রের স্রোতের কারণে এই তেজস্ক্রিয়তা ইরানের চেয়ে পশ্চিম দিকে অর্থাৎ আরব দেশগুলোর দিকে বেশি ধাবিত হবে। যদিও এর মাত্রা চেরনোবিলের মতো প্রাণঘাতী নাও হতে পারে, তবে সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হবে সমুদ্রের পানি। আইয়ার জানান, পানি তেজস্ক্রিয় হয়ে পড়লে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমুদ্রের পানি পরিশোধন (Desalination) প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। যেহেতু এই দেশগুলো তাদের পানির চাহিদার প্রায় পুরোটাই এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি এক চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানি ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ স্টিফেন র‍্যাপ সতর্ক করেছেন যে, বেসামরিক অবকাঠামো ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া এই যুদ্ধ শুরু করার কোনো আইনি বৈধতা নেই। যুদ্ধের খবরাখবর নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধে স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’ ইরান ও যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের সব ছবি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য খুব শীঘ্রই ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে।