যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির বিষয়ে আজ রোববারের মধ্যেই বড় ঘোষণা আসতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে ভারত সফরে থাকা রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববাসী হয়তো একটি বড় সুখবর পেতে যাচ্ছে। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাবে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় চেয়েছেন। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে ইরানকে আর কেউ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে ভয় পাবে না।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথ থেকে সরে আসবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আরও কয়েকটি দেশের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। এটি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির অন্যতম বড় দিক হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করা।
তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই কট্টরপন্থী নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং সিনেটর টেড ক্রুজ এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া বড় ধরনের ভুল হতে পারে। টেড ক্রুজ সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তির ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।
সমালোচনার জবাবে মার্কো রুবিও বলেন, "ইরানে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কঠোরতা দেখিয়েছেন, তা অভূতপূর্ব। আমাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনী এবং তাদের দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। ওয়াশিংটন সেই সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যগুলোতে শতভাগ সফল হয়েছে এবং এখন কূটনীতির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতা ও নিজ দলের বিদ্রোহে ‘উভয় সংকটে’ ট্রাম্প
'মোজতবা খামেনির অনুমতি ছাড়া মার্কিন চুক্তি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়'