ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। এখন থেকে দেশটির ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশ যেতে হলে সামরিক বাহিনীর পূর্বানুমতি নিতে হতে পারে। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ‘মিলিটারি সার্ভিস মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ বা সামরিক সেবা আধুনিকায়ন আইনের অধীনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে দেওয়া বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য দেশের বাইরে অবস্থানের ক্ষেত্রে আগেভাগেই অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে বা জাতীয় প্রয়োজনে কারা দেশের বাইরে আছেন, সেই সঠিক তথ্য সামরিক নিবন্ধন ব্যবস্থায় থাকা অপরিহার্য। মূলত রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
নতুন এই আইনের লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মানির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৬০ হাজারে নিয়ে যাওয়া। গত ডিসেম্বরে জার্মান পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করে, যার আওতায় আগামী জুলাই ২০২৭ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। বর্তমানে সামরিক সেবা ঐচ্ছিক হলেও, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা পুনরায় বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।
এই আইনটি পাস হওয়ার পর জার্মানির তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা ব্যারাকে বন্দি হয়ে জীবন কাটাতে চান না। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের সময় দেশটিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জার্মান সেনাবাহিনীকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানির এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ৯০-এর দশকের শান্তিচুক্তির পর সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়ে দিলেও, এখন আবারও কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের আমলের কঠোর নীতিতে ফিরছে বার্লিন। সূএ: বিবিসি